মার্কিন অভিবাসন বিভাগের বিতর্কিত অভিযান ও প্রাণঘাতী পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বিডেফোর্ড শহরজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
গেলো সোমবার ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের গুলিতে জোয়ান সেবাস্টিয়ান গুয়েরেরো নামের ২৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ার নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর জেরে বিডফোর্ডের সিনেটর কলিন্সের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শত শত বাসিন্দা।
এছাড়া আইসিইয়ের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতের স্মরণে এক শোকসভায় করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও মোমবাতি হাতে শহরজুড়ে মিছিল করেন। মেইন থেকে আইসিই দূর হও-বলে স্লোগান দেন তারা। অভিবাসীদের সমর্থন জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে এ ঘটনার জবাবদিহিতার দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন:
শোকসভায় অংশ নেয়া একজন বলেন, ‘একটি স্মরণসভা আয়োজন করেছি। মানুষ এ ঘটনায় আতঙ্কিত, মর্মাহত। বিডেফোর্ডের রাস্তায় একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করার সুযোগ দিচ্ছি। আশা করি, স্বচ্ছ তদন্ত হবে।’
অন্যআরেকজন বলেন, ‘মেইন অঙ্গরাজ্যে আইসিইয়ের উপস্থিতি আমাদের নিরাপদ করেনি। বরং তারাই এমন পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে, যার ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যতটুকু জানি, যে ব্যক্তিকে গুলি করা হয়েছে তিনি এখানে বৈধভাবেই ছিলেন।’
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ কলম্বিয়ান যুবকের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমোদন ছিলো। তার একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরও ছিলো।
ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের দাবি, নজরদারিতে থাকা একটি গাড়ি থামাতে চাইলে, চালক এজেন্টদের ওপর সেটি উঠিয়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপরই আইন প্রয়োগকারীরা আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন।
এর কয়েকদিন আগেই টেক্সাসের হিউস্টনে ট্রাফিক সিগনালে মার্কিন এজেন্টের গুলিতে ৫২ বছর বয়সী এক মেক্সিকান নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, ওই ব্যক্তি এজেন্টদের গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালানো হয়। যদিও নিহতের পরিবার এ দাবি অস্বীকার করেছে।





