হরমুজ প্রণালি ইরানের ‘রেড লাইন’; শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা তেহরানের

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করছে একটি জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করছে একটি জাহাজ | ছবি: রয়টার্স
0

হরমুজ প্রণালিকে অলঙ্ঘনীয় ‘রেড লাইন’ বা লাল রেখা হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার তেহরান সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে এর জবাবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের সব অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার রাতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। গত শনিবার একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় সচল করতেই তারা হামলা চালাচ্ছে।

প্রথম দফা হামলার পর ইরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমেরিকার সঙ্গে একটি অপরিহার্য ও অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত।’

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা ভেবেছিল আমাদের দক্ষিণ উপকূলের কিছু ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তারা এই কৌশলগত প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তবে ইরান তার ভূখণ্ডের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। এটি শুধু উপকূল বা দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল নয়।’

সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, ‘আমরা নিঃসন্দেহে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব এবং এই অঞ্চলে আমেরিকার হস্তক্ষেপ নস্যাৎ করে দেব।’ সামরিক মুখপাত্রের মতে, প্রণালিটি সচল করার একমাত্র উপায় হলো জুনে সই হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক মেনে চলা এবং জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ‘ইরানি নিয়মাবলি’ বাস্তবায়ন করা।

আরও পড়ুন:

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি আলোচনায় না ফেরে তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হবে। এর জবাবে আকরামিনিয়া বলেন, ট্রাম্প এই হুমকি বাস্তবায়ন করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলের ‘বাকি সব অবকাঠামোতে’ আঘাত করবে। এই প্রতিক্রিয়া হবে আগের হামলার চেয়ে আরও ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।

ইরান বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো যেন নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে না দেয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের জানা উচিত যে আমেরিকানদের ঘাঁটি দেয়া এবং তাদের ইরানি ভূখণ্ডে হামলার অনুমতি দেয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জবাব দেয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার ভোরে বাহরাইনে সতর্কসংকেত বাজতে শোনা গেছে এবং কুয়েত জানিয়েছে তারা ‘বৈরী ড্রোন হুমকি’ মোকাবিলা করছে। ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ও রাডার এবং আল শুয়াইবা এলাকায় একটি মার্কিন সামরিক জেটি ধ্বংস করেছে।

বাহরাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ইরানি আকাশ হামলা রুখে দিয়েছে। উত্তেজনার এই নতুন মোড় এবং জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

এএম