এপস্টেইন ফাইল সামলাতে ব্যর্থতা; ‘দোষী’, বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

জেডি ভ্যান্স
জেডি ভ্যান্স | ছবি: গার্ডিয়ান
0

জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা’ দেখিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, সব তথ্য সঙ্গে সঙ্গেই প্রকাশ করা উচিত ছিল। তবে এসব তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার প্রকাশিত ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ নামের একটি পডকাস্টে ভ্যান্স এসব কথা বলেন। এপস্টেইন ফাইল গোপন রাখতে ‘অযাচিত প্রভাব’ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ খোলামেলাভাবে বলছি, এপস্টেইন ফাইলের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার কারণ কি আমরা কিছু লুকানোর চেষ্টা করছিলাম? না।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই এপস্টেইন ফাইল সামলানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যান্সের এই মন্তব্য এলো।

ভ্যান্স মনে করেন, যোগাযোগে ব্যর্থতার পেছনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির প্রকাশ্য মন্তব্য একটি বড় কারণ। বন্ডি এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এপস্টেইনের কথিত ক্লায়েন্ট তালিকা তার টেবিলেই রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডানপন্থি সামাজিক মাধ্যম প্রভাবশালীদের মধ্যে তথ্যের যে বাইন্ডার বিতরণ করা হয়েছিল, সেগুলোর ‘বেশির ভাগই ছিল আগে থেকেই প্রকাশিত নথি’।

ভ্যান্স বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা আমি জানি না। তবে এর ফলাফল হয়েছে এই যে, মানুষ পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিই অবিশ্বাস করতে শুরু করেছে।’ তবে তিনি মনে করেন না যে, বন্ডি ‘কোনো বিদ্বেষমূলক কাজ’ করেছেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি, পাম রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সাড়া দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। আমাদের কাছে যা আছে এবং যা নেই, সে বিষয়ে তিনি অতিরঞ্জন করেছেন। এ কারণে আমাসহ অনেকের কাছে তিনি প্রকাশ্যে সমালোচিত হয়েছেন।’

আরও পড়ুন:

ভ্যান্স নিজেকে ‘এপস্টেইন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অন্যতম আদি অনুসারী’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সম্ভবত প্রতিটি রহস্যের গভীরে গিয়েছি।’ তার মতে, এপস্টেইন তদন্তের ‘আদি পাপ’ ছিল ২০০৭ ও ২০০৮ সালে। সে সময় তদন্তের পরিধি ‘খুবই সীমিত’ ছিল। এ জন্য তিনি সাবেক ইউএস অ্যাটর্নি অ্যালেক্স অ্যাকোস্তাকে দায়ী করেন, যিনি এপস্টেইনের সঙ্গে একটি বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তি করেছিলেন।

ভ্যান্স বলেন, ‘যদি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থেকে থাকে—আর আমার ধারণা সম্ভবত ছিল—তবে ২০০৭ সালে যে প্রমাণ ছিল, সেটাই ছিল তা প্রকাশের সুযোগ।’

এপস্টেইন ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের অংশ ছিলেন কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘হ্যাঁ, মোসাদ কিংবা সিআইএ অথবা অন্য কোনো ডিপ স্টেট।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তার যে মার্কিন গোয়েন্দাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, তা স্পষ্ট। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গেও তার সুস্পষ্ট যোগাযোগ ছিল।’

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকারও পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভ্যান্স। ট্রাম্প চাপের মুখে এসব ফাইল প্রকাশ করেছেন—এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। ভ্যান্সের যুক্তি, বিচার বিভাগকে ফাইল প্রকাশে বাধ্য করার কংগ্রেসের উদ্যোগটি ট্রাম্প চাইলে ‘বন্ধ করে দিতে পারতেন’। উল্লেখ্য, শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প নিজের অবস্থান বদলানোর আগ পর্যন্ত তিনি ও রিপাবলিকান নেতারা এই উদ্যোগ ঠেকাতে জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এরপরও প্রশাসন ফাইল প্রকাশে যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় নিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ বলতে চান যে, এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের বিষয়টি আমরা ভুলভাবে সামলেছি, তবে আমরা দোষী। বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা ভুল করেছি।’

তার ভাষ্য, ‘আমি মনে করি, একেবারে শুরুতেই আমাদের সব তথ্য প্রকাশ করে দেয়া উচিত ছিল। যত দ্রুত সম্ভব এটি করা উচিত ছিল।’

এএম