স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসের এই দ্রুত বিস্তার, এই ধরনের জন্য অনুমোদিত টিকার অভাব এবং দেশটির চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে মহামারিটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যমকে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, দুই মাস আগে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে ডিআরসিতে ৭৯৬ জনের মৃত্যুসহ ২ হাজারের বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে এটি এখন ‘রেকর্ডে থাকা তৃতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব’।
তেদরোস আরও জানান, এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ডিআরসিতে যে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব হয়েছিল, তাতে ২ হাজার নিশ্চিত আক্রান্ত হতে ১০ মাসের বেশি সময় লেগেছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভাইরাসটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে এটি আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে বিস্তৃত হয়েছে।’
গত ১৫ মে ডিআরসির খনিজসমৃদ্ধ ইতুরি প্রদেশে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় জর্জরিত।
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং সংক্রমিত ব্যক্তির দেহরস থেকে ইবোলা ছড়ায়। এখন পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশ এবং প্রতিবেশী উগান্ডাতেও এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল বান্দিবুগিও ধরন থেকে ছড়াচ্ছে, যার জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাড়াদান জোরদার করা হলেও তেদরোস সতর্ক করে বলেন, ‘নতুন আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের বেশি পরিচিত সংস্পর্শ তালিকার বাইরে থেকে শনাক্ত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, সংক্রমণের অনেক শৃঙ্খলই এখনো ধরা পড়ছে না।’
তিনি আরও জানান, ‘মৃতদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘটছে। এরা কখনো কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নেননি।’
তেদরোস বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ‘যে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব ঘটছে, তার সঙ্গে চলছে সক্রিয় সশস্ত্র সংঘাত।’ তিনি উল্লেখ করেন, বুধবার ইতুরির রাজধানী বুনিয়াতে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।
-768x402.webp)




