কমিশন জানায়, গুগলের বিরুদ্ধে দুটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের (ডিএমএ) আওতায় ৪৬ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়েছে গুগল সার্চের জন্য। অভিযোগ উঠেছে, গুগল তার সার্চ রেজাল্টে শপিং, হোটেল, পরিবহন ও খেলার ফলাফলের ক্ষেত্রে নিজেদের সেবাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
দ্বিতীয় জরিমানাটি করা হয়েছে ৪৩ কোটি ইউরো। অ্যাপ স্টোর ‘গুগল প্লে’-তে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে অ্যাপ নির্মাতাদের অন্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার দায়ে এই জরিমানা করা হয়। গত দুই দশকে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ইইউর পক্ষ থেকে জরিমানার মুখে পড়ল গুগল। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত গুগলের জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮ কোটি ইউরো।
ইইউর অ্যান্টিট্রাস্ট প্রধান তেরেসা রিবেরা জানান, আইন মেনে চলা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে ইইউর টেক প্রধান হেনা ভিরকুনেন বলেন, ‘ডিজিটাল বাজারে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
গুগল এই জরিমানার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। গুগলের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রেসিডেন্ট কেন্ট ওয়াকার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইন মানতে গিয়ে আমাদের এমন কিছু ফিচার বাদ দিতে হচ্ছে যা ইউরোপের মানুষ পছন্দ করে। এটি প্রতিযোগিতার সুষ্ঠু পরিবেশ নয়, বরং পণ্যের মান কমিয়ে দেয়া।’
তবে জরিমানার পাশাপাশি একটি ইতিবাচক দিকও দেখছে ইউরোপীয় কমিশন। তাদের মতে, গুগল আইন মানার ক্ষেত্রে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সার্চ ও বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। এ কারণে আপাতত নতুন কোনো জরিমানা করা হচ্ছে না।
গুগলকে তাদের কার্যক্রম সংশোধনের জন্য ৬০ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ইউরোপের এমন কড়াকড়িতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।





