চীনা হামলার প্রস্তুতি; সামরিক মহড়ায় অস্ত্র কারখানা সরানোর পরীক্ষা তাইওয়ানের

তাইওয়ানের এক সেনাসদস্য পতাকা নাড়ছেন
তাইওয়ানের এক সেনাসদস্য পতাকা নাড়ছেন | ছবি: রয়টার্স
0

চীনা হামলার আশঙ্কায় নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা সরানোর কৌশল পরীক্ষা করে দেখতে যাচ্ছে তাইওয়ান। একই সঙ্গে বেসামরিক কারখানাগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহারের সক্ষমতাও যাচাই করবে দেশটি। আগামী মাসের বার্ষিক সামরিক মহড়ায় এই পরীক্ষা চালানো হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। চীনা হামলায় সরবরাহ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আগামী ৫ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ‘হান কুয়াং’ বার্ষিক যুদ্ধ মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হবে। এই মহড়ায় দেখা হবে, চীন নিয়মিত সামরিক মহড়ার আড়ালে তাইওয়ানে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিলে দ্বীপটির সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে দ্রুত যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে পাল্টা অভিযান চালাবে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রূপরেখা অনুযায়ী, সংঘাতের সময় সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন বজায় রেখে শিল্পোৎপাদন কীভাবে বিকেন্দ্রীভূত করা যায়, তা এই মহড়ায় পরীক্ষা করা হবে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। ফলে তাইওয়ানের যুদ্ধকালীন প্রধান উদ্বেগগুলোর একটিই হলো, চীন যেকোনো হামলার শুরুতেই তাদের কমান্ড সেন্টার, বন্দর, সরবরাহ কেন্দ্র এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। তবে চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাইওয়ান সরকারের ভাষ্য হলো, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল সেখানকার জনগণই ঠিক করতে পারে।

তাইওয়ানের জয়েন্ট অপারেশনস ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল লু ওয়েন-ইউয়ান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ‘চীনা বাহিনী নিয়মিত বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার আড়ালে বড় ধরনের অবতরণ প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে। তারা তাইওয়ানে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েও নিজেদের পরিকল্পনা গোপন রাখছে।’ এই ধারণাকে সামনে রেখেই মহড়াটি সাজানো হয়েছে।

লু আরও জানান, মহড়ায় রাজধানী তাইপেইয়ের অস্ত্র বিভাগের ২০২তম অস্ত্রাগারকে যুদ্ধকালীন সময়ে স্থানান্তরের বিষয়টি অনুকরণ করা হবে। জরুরি নির্দেশ জারি হওয়ার পর ‘সম্পূর্ণ সিস্টেম সংযোজনের’ দায়িত্বে থাকা বেসামরিক কারখানাগুলোকেও সচল করা হবে।

চীনা কোস্টগার্ডের তৎপরতা বাড়ছে

মেজর জেনারেল লু বলেন, এই মহড়ায় তাইওয়ানের সমুদ্রপথ খোলা রাখা এবং জরুরি সরবরাহ পাঠানোর সক্ষমতাও যাচাই করা হবে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে সেনা, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ নিয়ে এই মহড়ায় অংশ নেবে। কোস্টগার্ডের জাহাজ পুনর্গঠন, উপকূলে হামলা, সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ এবং জরুরি সরবরাহের সুরক্ষা বহরের বিষয়গুলোও এতে থাকবে।

তাইওয়ানের চারপাশে চীনা কোস্টগার্ডের তৎপরতা তীব্রভাবে বেড়েছে বলে খবর দিয়েছে দেশটি। এতে তাইপেই আশঙ্কা করছে, বেইজিং তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে চাপ বাড়িয়ে সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

মঙ্গলবার তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত দূতাবাস (ডি ফ্যাক্টো এমব্যাসি) মার্কিন ও তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে একটি বিরল ঘোষণা দিয়েছে। এতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আমেরিকান ইনস্টিটিউট ইন তাইওয়ান ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ইস্যুতে তাইওয়ানের অংশীদারত্বকে সাধুবাদ জানায়। সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’ পোস্টের সঙ্গে দেয়া ছবিতে দেখা যায়, একটি অজ্ঞাত স্থানে তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ মার্কিন কোস্টগার্ডের কাটার মিজেটের সঙ্গে বহরে চলছে।

এবারই প্রথম ১০ দিনের এই মহড়া চলাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেবে তাইওয়ান। বিপর্যয় বা চীনা আক্রমণের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যান্ডউইথ কমে গেলে নাগরিকরা কীভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

এএম