চলতি মাসে তুরস্কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প রুশ হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কিকে স্বাগত জানানোর পরও তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত। উন্নত মার্কিন অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার উদ্বেগের কথা তিনি স্পষ্ট জানান।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চান কিছু প্যাট্রিয়ট, চান কিছু টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর একটি প্রতিরক্ষামূলক, অন্যটি ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অস্ত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিচক্ষণ ও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা এখনো কিছুতে সম্মত হইনি। আলোচনা চলছে ঠিকই, কিন্তু এ ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করা সহজ কাজ নয়। আমার মনে হয় না এটি কখনো ঘটবে। কারণ, যাদের এই প্রযুক্তি দেয়া হবে, তারা একদিন হয়তো আপনার বিরুদ্ধেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে।’
রাশিয়ার হামলা যতই বাড়ছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ততই কমছে। এটিই দেশটির অস্ত্রভান্ডারে থাকা একমাত্র ব্যবস্থা, যা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভূখণ্ডে প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যৌথ চুক্তির চেষ্টা করে আসছে।
এর আগে ট্রাম্পের ইউক্রেনকে এই লাইসেন্স দেয়ার প্রতিশ্রুতি অনেককেই অবাক করেছিল। এরপর থেকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা পেন্টাগন ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে চুক্তির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।
এই চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্টেফানিশিনা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ইউক্রেনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি নিশ্চিত। মঙ্গলবার লকহিডের নির্বাহীরা জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং শিগগিরই তারা ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন।





