গত ৩ আগস্ট ওভাল অফিসে দেয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘তেলের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে তারা অনেক বেশি টাকা কামাচ্ছে। বিষয়টি আমার পছন্দ হচ্ছে না। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমার চেয়ে বড় বিশ্বাসী আর কেউ নেই, তাই আমার মুখ থেকে এমন কথা আসা হয়তো অনেকের জন্য বিস্ময়কর।’
গত সপ্তাহে এক্সনমোবিল ও শেভরন তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের বিশাল মুনাফার হিসাব প্রকাশ করেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এক্সনমোবিলের মুনাফা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের (৭.১ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। অন্যদিকে শেভরনের মুনাফা হয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩৮০ শতাংশ বেশি।
তেল কোম্পানিগুলোকে মুনাফার অংশ জনগণকে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘শেভরন ও এক্সনমোবিল অনেক বেশি মুনাফা করছে। তাদের উচিত এর কিছু অংশ সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেয়া। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে তেলের দাম কমানো উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে মোটেও খুশি নই এবং এটি আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি।’
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এটি প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে তেল কোম্পানিগুলোর সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) এই মুনাফাকে সমর্থন করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র অ্যান্ড্রু উডস বলেন, ‘তেলের বর্তমান চড়া দামের কারণ বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদা। এছাড়া হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে চলমান অনিশ্চয়তার কারণেই দাম বেড়েছে, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির কারণে নয়।’
তেল কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত ডেমোক্র্যাটদের কৌশলই বেছে নিয়েছেন। এর আগে জো বাইডেনও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সময় তেল কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ডকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
ট্রাম্প খুচরা পর্যায়ে তেলের দাম অবিলম্বে কমানোর নির্দেশ দিলেও বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪ দশমিক ১০ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে বিমান হামলা শুরু করার আগে এই দাম ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। এর আগে গত জুনে তেলের দাম না কমানোয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।





