২০২৪ সালে ডেনমার্ক সরকার ঘোষণা করেছিল যে তারা প্রথমবারের মতো নারী সদস্যদেরও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় আনবে। আগের চার মাসের সেবার সময় বাড়িয়ে এখন ১১ মাস করা হয়েছে। আগামী ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রতিবছর কনস্ক্রিপ্টের সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
নতুন এই সেনাদল চলতি মাসের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা হবে। ১০০ জনের বেশি সেনার একটি কোম্পানি এক মাসের জন্য সেখানে পেশাদার সেনাদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেবে। এই মোতায়েন রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই ডেনিশ ভূখণ্ডটি একাধিকবার কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক সরকার তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছিলেন, তার দেশ সামরিক জোটের প্রতিটি ইঞ্চি অঞ্চল রক্ষা করতে প্রস্তুত। পশ্চিম ডেনমার্কের ভার্দে শহর থেকে আসা ১৯ বছর বয়সী তরুণ সিলাস নোহর জানান, তিনি দীর্ঘমেয়াদী এই সামরিক সেবাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা ১১ মাস সময় পাব। আমার মনে হচ্ছে এর মাধ্যমে সামরিক জীবনকে আরও গভীরভাবে অনুভব করা সম্ভব হবে।’
নতুন রিক্রুটদের পাঁচ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং এরপর ছয় মাসের মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনী ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি পরিচালনার জন্যও নতুন বিভাগ চালু করছে। ডেনমার্কে ১৮ বছর বয়সী সুস্থ সবল তরুণদের লটারির মাধ্যমে সামরিক সেবার জন্য নির্বাচন করা হয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবীরাই কোটার সিংহভাগ পূরণ করে আসছেন। ডেনমার্কের প্রতিবেশী দেশ সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নরওয়েতেও এ ধরনের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু রয়েছে।





