সামুদ্রিক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর উপাত্ত অনুযায়ী, নতুন সংযোজনের ফলে বর্তমানে রাশিয়ার এই গোপন নৌবহরে গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ রাশিয়ার জেভেজদা শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলতে এমন কিছু পুরোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে বোঝায়, যেগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গোপন কৌশল ব্যবহার করে তেল বা পণ্য পরিবহন করে। রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জ্বালানি পণ্য বিক্রির জন্য এই কৌশল ব্যবহার করে থাকে।
২০২৭ সালে ইউরোপের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হলেও এই ছায়া নৌবহরের মাধ্যমে রাশিয়া তার গ্যাস রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রেমলিনের আয়ের উৎস বন্ধ করতেই ইউরোপ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটছে। নিউ এনার্জি অ্যাডভান্সমেন্ট হাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইরিনা মিরোনোভা বলেন, ‘ইরান ও ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও তেলের ছায়া নৌবহর ছিল। তবে গ্যাস উৎপাদনের মতো উন্নত প্রযুক্তিতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া একটি অনন্য ঘটনা।’
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও ইউরোপীয় দেশগুলো সাইবেরিয়ার ইয়ামাল প্রকল্প থেকে বেশিরভাগ গ্যাস কিনেছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আগামী বছর থেকে রাশিয়ার এলএনজি কেনা পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। গত সপ্তাহে ইইউ নির্দেশ দিয়েছে, রুশ নাগরিকদের কাছে এলএনজি ট্যাঙ্কার বিক্রি করলে তা ব্রাসেলসকে জানাতে হবে। তবে গ্রিসের আপত্তির মুখে ইইউভুক্ত দেশের জাহাজ দিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে রাশিয়ার গ্যাস পরিবহনের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। এদিকে নোভাটেকের ‘আর্কটিক এলএনজি ২’ প্রকল্পসহ রাশিয়ার কিছু গ্যাস স্থাপনা ইতিমধ্যেই পৃথক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যমতে, রাশিয়ার তেলের ছায়া নৌবহরে ১ হাজারেরও বেশি জাহাজ রয়েছে। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে জাহাজগুলো অনেক জটিল হওয়ায় এই খাতে অগ্রসর হতে তারা কিছুটা সময় নিয়েছে। বর্তমানে ২৫টি জাহাজের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা টার্মিনাল থেকে এলএনজি পরিবহন করেছে। এই ট্যাঙ্কারগুলোর মালিকানা মূলত দুবাই, হংকং ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট ভুঁইফোড় কোম্পানির নামে রয়েছে। জাহাজগুলো সিগন্যাল জ্যাম করা এবং মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কৌশল ব্যবহার করে পণ্যের উৎস গোপন রাখছে।





