চীনজুড়ে টাইফুন ‘ডলফিনের’ তাণ্ডব, ভাঙলো বৃষ্টিপাতের রেকর্ড

বন্যার পানিতে ছাতা হাতে এক ব্যক্তি
বন্যার পানিতে ছাতা হাতে এক ব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স
0

চলতি বছর চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ রাজধানী বেইজিংসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। বেইজিংয়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে এবং বহু গাড়ি আটকা পড়েছে। এর আগে দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড গড়েছে টাইফুনটি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ধ্বংসাত্মক আবহাওয়ার সঙ্গে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে এল নিনো প্যাটার্নের কারণে এ বছর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘন ঘন এবং শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বুধবার জানিয়েছে, বেইজিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৃষ্টিপাত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে ২৫০টি বাস রুট বন্ধ, ১৫০টি পর্যটন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত এবং সাবওয়ের ১০টি লাইনে গতি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘রেডনোটে’ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বৃষ্টির তোড়ে বেইজিংয়ের বহু লেনের সড়ক কার্যত নদীতে পরিণত হয়েছে; গাড়ি ও বাস অর্ধেক পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার বেইজিংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় চাংপিং জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সকাল ৯টার পর মাত্র এক ঘণ্টায় সেখানে ৯০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গত রোববার পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে আঘাত হানার পর টাইফুনটি এই সপ্তাহে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও এর অবশিষ্টাংশ ক্রান্তীয় আর্দ্রতা গভীর অভ্যন্তরীণ এলাকায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে, যা বন্যার হুমকি তৈরি করেছে।

মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশের লুওহে শহরের বাসিন্দা ঝাও জুনজিয়া বলেন, ‘সবচেয়ে ঝামেলার বিষয় হলো এটি কাজ ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। খাবার সংগ্রহ ও যাতায়াতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে।’ রয়টার্সের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর ইউহুয়ানে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে আশপাশের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বহু গাড়ি একটি সেতুর ওপর আশ্রয় নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলীয় হেনান ও হুবেই প্রদেশে এই সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙেছে। চীনের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত কোম্পানির শহর উগাংয়ে আগস্ট মাসের এক দিনে সর্বোচ্চ ২০৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং জিয়াংইয়াং শহরে ১৬৯ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

টাইফুনটির অবশিষ্টাংশের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বাসিন্দারা আরও কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চীনের টিকটকের প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ডোয়ইন’-এ ছোট ভিডিও তৈরি করা লুওহে শহরের ৩২ বছর বয়সী ঝাও জানান, বৃষ্টি আসার আগেই তিনি গাড়িটি উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। তার ভাষ্য, ‘আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের কাছাকাছি এলাকায় জলাবদ্ধতা খুবই ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাই আগেভাগেই আমরা গাড়িটি ২ কিলোমিটার দূরে পার্ক করেছি।’

চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় চীনের আবহাওয়াবিদেরা এখন প্রথাগত পূর্বাভাস ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর আবহাওয়া মডেলের সাহায্য নিচ্ছেন। প্রতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং ফসল ভেসে যাওয়ায় চীনের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

এএম