গাড়ি ও ইস্পাতে শুল্ক কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; কানাডার সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা

জিএমের অ্যাসেম্বলি কারখানার বাইরে পার্ক করে রাখা গাড়িগুলো
জিএমের অ্যাসেম্বলি কারখানার বাইরে পার্ক করে রাখা গাড়িগুলো | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ি, ট্রাক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিতর্কিত শুল্কের হার অনেকটাই কমে আসতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

কানাডীয় পণ্যের ওপর বুধবার থেকেই নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি সময়সীমা পিছিয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, কানাডার সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি ‘হতে যাচ্ছে’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগামী শনিবার ভোর পর্যন্ত সময় পাবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় কানাডায় তৈরি গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। শিল্প খাতের নির্বাহীরা বলছেন, ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকলে কানাডার গাড়ি প্রস্তুত খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ত। এ ছাড়া কানাডীয় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কের হার অর্ধেক কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোটা ব্যবস্থার অধীনেই ইস্পাতে এই ছাড় মিলবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশটির ১০টি প্রদেশের প্রিমিয়ারদের (প্রাদেশিক সরকারপ্রধান) সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন। চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। গত বছর ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে অধিকাংশ কানাডীয় প্রদেশ মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রতিনিধিরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন যা মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তবে কানাডার সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৫৬ শতাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে আর কোনো নতিস্বীকার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এএম