বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ হিজবুল্লাহকে ‘ইরানি সরকারের পক্ষে সেবা’ এবং ‘ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর’ (আইআরজিসি)-এর ‘কুদস ফোর্স’-এর কমান্ডে কাজ করার অভিযোগে নতুন করে তালিকাভুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই পুনরায় তালিকাভুক্তির লক্ষ্য হলো দেখানো যে হিজবুল্লাহ ইরান সরকারের, বিশেষ করে আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের পক্ষে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হিজবুল্লাহকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ এবং ২০০১ সালে ‘স্পেশাল ডিজাইনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ব্যাহত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে একঘরে করা। এর অংশ হিসেবে সম্পদ জব্দ, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন নিষিদ্ধ করা এবং পণ্য, সেবা ও সহায়তা প্রবাহ বন্ধের মতো ব্যবস্থা থাকে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের পদক্ষেপ ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলছে, তার অংশ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে প্রায় ছয় মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা ঘিরে পরিস্থিতি চলমান। এর মধ্যে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরানকে ‘যে কোনো ধরনের লাইফলাইন’ দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার বলেন, ইরানের ওপর ওয়াশিংটন যে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ দিতে চায়, তা নিয়ে তিনি সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবেন।
বৃহস্পতিবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও ১০ জনকে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর জন্য নগদ অর্থ পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন তুর্কি ব্যবসায়ীকেও লক্ষ্য করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই ব্যবসায়ী এমন একটি কুরিয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন, যা অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশ থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে অর্থ সরিয়ে নেয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি তুরস্কভিত্তিক এক্সচেঞ্জ হাউসকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেন এবং কুদস ফোর্স-সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরের জন্য ফ্রন্ট কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবের ব্যবস্থাও করেছেন। কয়েকজন কুরিয়ারকেও এই পদক্ষেপে লক্ষ্য করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লেবাননের ১৯৭৫–৯০ সালের গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহ গঠন করে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর’। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ধারা ‘রপ্তানি’ এবং ১৯৮২ সালে লেবাননে ঢোকা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই—এই প্রেক্ষাপটও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর নিজস্ব সামাজিক সেবার ব্যবস্থাও আছে; এর মধ্যে স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে। লেবাননের শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংগঠনটির সমর্থন আছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।





