গ্রিন কার্ড ও শিক্ষার্থী ভিসা নীতিতে ট্রাম্পের পরাজয়, ডাকযোগে ভোটের আবেদনও খারিজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

অভিবাসন নীতি নিয়ে বড় দুটি ধাক্কা খেলো ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রিন কার্ড প্রত্যাশিদের জন্য জারি করা কঠোর নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউ ইয়র্কসহ ২১ অঙ্গরাজ্য। আর শিক্ষার্থীদের ভিসার সময়সীমা বেধে দেয়ার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। এদিকে, নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট সীমিত করার ট্রাম্পের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গেল মার্চে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ডাকযোগে ভোটের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই ডাকযোগে ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাকযোগে ভোটদানের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, তাদেরও ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগের মাধ্যমে জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে।

এরই পদক্ষেপ হিসেবে গেল মার্চে ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগ সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। পোস্টাল ব্যালটের খামে ইউনিক বারকোড চালুর পাশাপাশি, ভোটারদের তথ্য সরবরাহ বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধ আরোপ করেন তিনি। এসব আদেশ জারির পরই সেগুলো আইনি বাধায় পড়েছিল।

এবার ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগ সীমিত করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের ৯ সদস্যের বেঞ্চে থাকা ৬ রক্ষণশীল বিচারপতির মধ্যে মাত্র দুজন রায়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউজের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে দীর্ঘ মেয়াদে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত আইনসম্মত হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিচারকরা। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ বিধি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ, নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এরইমধ্যে ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:

এদিকে, অভিবাসন নীতি নিয়ে বড় দুটি ধাক্কা খেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য আগামী শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পাবলিক চার্জ বিধির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্কসহ ২১টি অঙ্গরাজ্য। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, অভিবাসীরা যেন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই বিধির মূল লক্ষ্য ছিল।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিয়ম অভিবাসীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার একটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে, এটি নিউ ইয়র্কবাসীদের তাদের নির্ভরশীল পরিষেবা ও প্রাপ্য সরকারি সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত করার একটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। অনেক মার্কিন পরিবার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবাগুলো নিচ্ছে না। তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, এসব কর্মসূচি গ্রহণ করলে তারাও অভিবাসন কর্মকর্তারাদের তোপের মুখে পড়বেন। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে চলবে যাচাই-বাছাই।’

এছাড়া, বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের বেধে দেয়া ভিসার সময়সীমার প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন ফেডারেল আদালতের একজন বিচারক। মঙ্গলবারে কার্যকর হওয়ার একদিন আগেই তা আটকে গেলো। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সীমাবদ্ধতার মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসার মেয়াদ ছিল ৪ বছর। এছাড়া, সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করা হয়েছিল ২৪০ দিনে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে প্রায় ১৬ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ক্ষতির মুখে পড়তো।

এফএস