হামলার ধরন ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুটি আঘাত হানা হয়। এতে অন্তত ১২০ শিশু ও ২৬ শিক্ষিকাসহ ১৫৬ জন নিহত হন। বিদ্যালয়টির পাশেই ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের একটি নৌঘাঁটি থাকলেও সেটি দেয়াল দিয়ে আলাদা করা ছিল এবং স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্টত একটি স্কুল হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মার্কিন বাহিনী পুরোনো ও অসম্পূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে এই হামলা চালায়।
একই দিন লামের্দ শহরের শহীদ হাজ খলিল নাইমি ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন হামলায় ২২ জন নিহত হন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) এই হামলার দায় অস্বীকার করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রকে দায়ী করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হামলাটি চালানো হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও পেন্টাগনের নীতি
ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে সরাসরি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের উপ-প্রেস সচিব অ্যানা কেলি দাবি করেন, এই সংঘাতের একমাত্র যুদ্ধাপরাধী হলো ইরানি শাসকগোষ্ঠী, যারা নিজেদের জনগণকে হত্যা করেছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে যুদ্ধাপরাধ প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা বেপরোয়া আচরণ (যাকে আইনি ভাষায় ‘ডলাস ইভেনচুয়ালিস’ বলা হয়) থাকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক জুরিস্ট কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী রিড ব্রোডি জানান, মার্কিন বাহিনী স্কুল ভবনে ইচ্ছা করে হামলা চালিয়েছে এমনটা দাবি না করা হলেও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির বড় ঝুঁকি জেনেও অভিযান চালানো স্পষ্টতই বেপরোয়া আচরণের প্রমাণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথের আমলে পেন্টাগনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর দপ্তরটি সংকুচিত করা এবং ‘সর্বোচ্চ ধ্বংসাত্মক’ সামরিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেয়ার নীতি এই ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
বিচারের সম্ভাবনা কতটা?
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) থেকে নিজেদের অবমুক্ত করে নিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সদস্য নয়, কারণ সেখানে যুক্ত হলে তাদের নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও পর্যালোচনার আওতায় চলে আসবে।
তবে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন রাজনৈতিকভাবে বড় গুরুত্ব বহন করে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জোরদার করতে পারেন। ফলে সরাসরি আইনি শাস্তি না হলেও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।





