চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র বেলারুশ সুওয়ালকি গ্যাপের কাছে বড় আকারের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। সংকীর্ণ করিডোরটি বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোকে ন্যাটোর বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানই অঞ্চলটিকে ন্যাটোর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের একটি গোপন গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের জন্য তলব করেন। এরপর রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা দেন।
রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও। তার দাবি, ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে পারে মস্কো। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের শঙ্কা, কয়েক দশকের মধ্যে ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্রিটেন।
জার্মানিতেও সম্ভাব্য রুশ হামলার জন্য হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সুপরিচিত সুইজারল্যান্ডও একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। যেখানে সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
এরমধ্যেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে একটি স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটির অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন। গুঞ্জন আছে, সম্প্রতি ন্যাটো ভূখণ্ডে হামলা না চালাতে মস্কোকে সতর্ক করতেই সিআইএ পরিচালককে গোপন মিশনে পাঠিয়েছিলেন তিনি।
এসব বিক্ষিপ্ত ঘটনার পেছনে রয়েছে বেশ বড়সড় এক উদ্বেগ। আটলান্টিকের দুই পারের দেশগুলোর শঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্রুতই ইউক্রেনের বাইরে যুদ্ধ প্রসারিত করবেন। এ কারনেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে গোটা ইউরোপ।
তবে একফালি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের জন্য ৩২ সদস্য রাষ্ট্রের ন্যাটো প্রতিরক্ষা জোট আদৌ কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে সম্মত হবে কি না— সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।





