ভারতে নিষিদ্ধ হচ্ছে স্কুলের কাছাকাছি জাঙ্ক ফুডের দোকানগুলো, সরকারের সিদ্ধান্ত

ভারতে নিষিদ্ধ হচ্ছে স্কুলের কাছাকাছি জাঙ্ক ফুডের দোকানগুলো
ভারতে নিষিদ্ধ হচ্ছে স্কুলের কাছাকাছি জাঙ্ক ফুডের দোকানগুলো | ছবি: সংগৃহীত
0

স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে চিনিযুক্ত সফট ড্রিঙ্কস, চিপস থেকে শুরু করে সিঙ্গারা ও চর্বিযুক্ত পিৎজা বা বার্গার বিক্রি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ভারত। শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্থূলতার হার বাড়ায় এবং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কমানো হচ্ছে জাঙ্ক ফুডের ব্যবহার। এ বিষয়ে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জনসাধারণের মতামত নেয়া হবে। সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তবে বিক্রি কমার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন দোকানদাররা।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৫ লাখ স্কুল রয়েছে ভারতে। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বেশিরভাগই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতা সমস্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশনের তথ্য মতে, গেল ১১ বছরে ভারতীয় শিশুদের স্থুলতার হার প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটিতে। ২০৪০ সালে তা পৌঁছাবে সাড়ে ৫ কোটিতে।

এমন অবস্থায় দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অভিযানে নেমেছে ভারত সরকার। বিশেষ করে দেশটির সব স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে চিনি ও লবণযুক্ত সফট ড্রিঙ্কস, চিপস থেকে শুরু করে তেলেভাজা সিঙ্গারা, সমুচা ও চর্বিযুক্ত পিৎজা, বার্গার ইত্যাদি খাবার বিক্রি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেয়া হবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। নতুন নিয়মে স্কুলের কাছাকাছি দোকান, রেস্তোরাঁ ও স্টলে এসব খাবার বিক্রি করা যাবে না।

শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্থূলতার হার কমানো এবং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি বলছে, শিশুদের মধ্যে জাঙ্ক ফুডের ব্যবহার কমাতে এই পদক্ষেপ।

ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা রাহুল খান্না বলেন, ‘বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি অবশ্যই ক্ষতির মুখে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সমগ্র সরবরাহ শৃঙ্খলে। তারা বিশেষভাবে স্কুলে শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আলাদা পণ্য তৈরি করতে পারবে না। তাদের একটি উপায় খুঁজতে হবে।’

সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিভাবকরা জানান, অস্বাস্থ্যকর খাবারের জন্যই বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুলের আশপাশের দোকানের এসব খাবার শিশুদের আকৃষ্ট করে বেশি। তাই জাঙ্ক ফুডগুলো শিশুদের নজরের বাইরে রাখা উচিত।

এক অভিভাবক বলেন, ‘এটা সরকারের ভালো পদক্ষেপ। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্কুলে যেতে পারে না।’

আরও পড়ুন:

আরেক অভিভাবক বলেন, ‘এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার বাচ্চাদের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দিচ্ছে। বাচ্চারা জেদ করে, তাই স্কুলের কাছাকাছি এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি করা উচিত নয়।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘অনেকসময় প্যাকেটজাত খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ থাকে। আমরা অনেক সময় জানতেও পারি না, শিশুরা কী খাচ্ছে।’

তবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্কুলের পাশে থাকা দোকানদারদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা তিনভাগের এক ভাগ বিক্রি কমে যাবে। ছোট খুচরা বিক্রেতাদের নয়, বরং উৎপাদক বা কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান দোকানদাররা।

এক বিক্রেতা বলেন, ‘পছন্দের জিনিস বাচ্চারা স্কুলে না পেলেও যেকোনো জায়গা থেকে জোগাড় করবে। তারা বায়না করলে কেউ আটকাতে পারবে না।’

আরেক দোকানদার বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের উচিত বড় ব্র্যান্ডগুলোর ওপর নজর দেয়া। তারা ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন বন্ধ করলেই ছোট দোকানদাররা এগুলো বিক্রি করতে পারবে না।’

এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ অনেক স্কুল জনবহুল বাজারের এলাকায় অবস্থিত। এটি কোকা-কোলা, নেসলের মতো বহুজাতিক সংস্থার জন্য সরবাহ বাধার মুখে পড়বে। এছাড়া, খসড়া আইনে বলা আছে, এই বিধি-নিষেধ কেবল স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রযোজ্য।

সম্প্রতি বিদেশি ব্র্যান্ডের চিপস, চকলেট ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে ভারতের শিশুদের মধ্যে। দামে কম ও আকর্ষণীয় ব্র্যান্ডের কারণে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোও ঝুঁকছে এসব খাবারের দিকে।

এসএইচ