ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দৃশ্য এটি। বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সপ্তাহব্যাপী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে গণআন্দোলনে। বিক্ষোভ দমাতে একের পর এক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। বিশাল মিছিল নিয়ে প্যারিসের প্লেস দে লা নেশন স্কয়ারে জড়ো হলে শুরু হয় পুলিশের সহিংস দমনপীড়ন। এক পর্যায়ের দু'পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীরা।
শুধু প্যারিস নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে মার্সেই, লিওঁ, স্ট্রাসবার্গসহ গোটা ফ্রান্সে। স্কুল শিক্ষার্থীদের সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছে শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ। আন্দোলনের মুখে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কয়েকশ' স্কুল। এছাড়া বেশকিছু স্কুলে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনকে মর্যাদা লড়াই হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করে তোলার পেছনে দায়ী ফরাসি সরকারের কঠোর পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে শক্তি প্রয়োগ করে দমানোর চেষ্টা করেছে সরকার।
চলমান সহিংস ঘটনার জেরে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয় ফরাসি সংসদে। প্রশ্নোত্তর পর্বে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে পুলিশের পক্ষে সাফাই গাইলেন। তার দাবি, আন্দোলন এরইমধ্যে বহিরাগতরা ছিনতাই করেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেন, ‘বেশকিছু মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কে দেয়া হচ্ছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি। এটি বিরোধীদের প্রোপাগাণ্ডা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এদিকে, ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন নীতিকে দায়ী করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, এটি শিক্ষা নিয়ে নয় বরং ইসলামি ভাবধারা দেশটিকে দখল করার চেষ্টা করছে।
কর্মী সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ, দুর্বল অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। দেশটির চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে এই আন্দোলন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরাসি সরকারের। দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি সরকার।





