যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে তখন ইরান যুদ্ধের বিষয়ে সমাধানে আসতে অনেকটা উঠেপড়ে লেগেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ধুকছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিসহ গোটা বিশ্ব বাজার। রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিও।
তবে নিজের ব্যাপারে এখনো শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতলে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভালো নাকি খারাপ উপায়ে শেষ করা হবে তা নিয়ে ওয়াশিংটন শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও তা হতে পারে।
এদিকে, ম্যারিল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতাদেরও হত্যা করা হয়েছে। ইরানকে কে চালাচ্ছে সেটি এখন বড় প্রশ্ন।
গেল সোমবার নেব্রাস্কায় এক সমাবেশ ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বা সান দিয়েগোর মতো বড় শহর ধ্বংস করে দিতে ইরান সক্ষম। ট্রাম্পের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি মিডিয়ার বাড়াবাড়ি। ইরানকে না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো কী পরিমাণ হুমকিতে পড়ত সেটিই বুঝিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাকর্মী এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। উদ্বেগ জানিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে হটকারী বলছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দারা।
গতকাল (মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮১টি যুদ্ধবিমানসহ বেশকিছু ড্রোন ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার।
এদিকে, ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানান, মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ইরানের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তেহরানের অর্থনীতি ধসে যাবে বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
এদিকে, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে কাতারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দর মোমেনি। দোহা সফরে গিয়ে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার।





