প্যাট্রিয়ট-থাড থাকতেও হুথিদের হামলা ঠেকাতে কেন হিমশিম সৌদি?

মিসাইল
মিসাইল | ছবি: সংগৃহীত
0

রীতিমতো সতর্কতা দিয়ে সৌদি আরবে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। এসব হামলায় অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে হুথিরা। যা দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্যাট্রিয়ট, থাড-এর মতো বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা স্বত্বতেও কেন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে?

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি জোটের নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আভা, জিজান ও নাজরানে ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদির অভ্যন্তরেও একের পর এক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরোপুরি ‘নাজেহাল’ বা ‘পরাস্ত’ বলা যায় না। তবে সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে?

সৌদি আরবের হাতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট এবং থাড। যা বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এগুলো মূলত দূরপাল্লার বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে কার্যকর। হুতিদের তৈরি একেবারে সস্তা ও কম উচ্চতায় ওড়া ‘ওয়ান-ওয়ে সুইসাইড ড্রোন’ এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত আঘাত হানতে পারছে।

আরও পড়ুন

এছাড়া এ ব্যবস্থার পক্ষে একই সময়ে রাডারে আসা বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু একসঙ্গে ট্র্যাক করে ধ্বংস করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। যার ফলে দু-একটি মিসাইল বা ড্রোন প্রতিরক্ষা ভেদ করে মূল লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হচ্ছে।

আরেকটি দিক হচ্ছে, ভৌগোলিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। সৌদি আরবের বিশাল সীমান্ত এলাকা এবং আরামকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর অবস্থান হুথিদের আক্রমণকে সহজ করে দেয়। হুথিরা অনেক সময় সৌদি রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পাহাড়ি এলাকা বা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে নিচু পথ দিয়ে ড্রোন পাঠায়। যা প্রতিরোধে ব্যর্থ সৌদির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এ লড়াই সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। হুথিদের একটি ড্রোনের খরচ মাত্র কয়েক হাজার ডলার, অথচ সেটি ধ্বংস করতে সৌদি আরবকে যে প্যাট্রিয়ট মিসাইলটি ছুঁড়তে হয়, তার একেকটির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার। বিপুল এ খরচের কারণে দীর্ঘমেয়াদে সব আক্রমণ প্যাট্রিয়ট দিয়ে প্রতিহত করা অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যালি কঠিন।

গোয়েন্দা ও ইরানি প্রযুক্তির সহায়তা হুথিদের আরেকটি বড় শক্তি। ইরানের তৈরি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও নকশা ব্যবহার করছে গোষ্ঠীটি। ইরান ক্রমাগত প্রযুক্তি আধুনিক করছে। ফলে হুথিদের মিসাইলগুলো আগের চেয়ে আরও নিখুঁত এবং প্রতিরোধ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়ে উঠছে।

আরেকটু সংক্ষেপে বলতে গেলে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং নির্দিষ্ট ধরণের মিসাইল ঠেকানোর জন্য তৈরি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম দিয়ে হুথিদের সস্তা, বহুমুখী এবং ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ড্রোন-মিসাইল আক্রমণ শতভাগ ঠেকানো সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেআর