ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসন ও সমাধান আটকে আছে হরমুজ ইস্যুতে। ট্রাম্প প্রশাসন বার বার হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও বন্ধ হয়নি জাহাজে হামলা। গতকাল (মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর) এই জলপথে পুঁতে রাখা মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি জাহাজ। আইআরজিসি জানিয়েছে, তেলের ট্যাঙ্কারগুলো জলপথের দক্ষিণে আইন অমান্য করে অবৈধ রুট দিয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে আগুন ধরে যায়।
ইরান নাৎসি বাহিনীর কৌশলে হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তেহরানকে শায়েস্তা করতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও হুঁশিয়ারি জানান তিনি। রুবিও’র মতে, ইরান কট্টরপন্থীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো খুব কঠিন।
এদিকে, গোপনে ইসরাইল সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করলেও, আলোচনার বিষয়বস্তুর নিয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে এখনো কঠোর অবস্থানে ইরান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে ইরান বলেছে, যতদিন পর্যন্ত তেহরানের দাবি পূরণ না হবে ততদিন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় এবং বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি। ইরান সফরে আসিম মুনির আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে।
এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংঘাত লেগেই আছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর। আজ (বুধবার, ২১ অক্টোবর) সৌদি আরবের দিকে আসা চারটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে জোটটি। সৌদি জোটের অভিযোগ, ড্রোনগুলোর লক্ষ্যবস্তু মদিনাসহ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছিলো।
এদিকে, দুই পক্ষের সংঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া তাইজ প্রদেশে হামলার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে হুথির সামরিক বাহিনী। যেখানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই দেখা গেছে। পাহাড়ি অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও বোমা হামলার চিত্রও দেখা যায়।
হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে অনেকটা অস্থিরতা বইছে সৌদি আরবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুসহ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকে সৌদি প্রশাসন। যেখানে সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।





