বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর অভিজাত রাজনীতি হটিয়ে ইসরাইলের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আস্থাভাজন নাম সম্ভবত গাদি আইজেনকোট। নেতানিয়াহুর বিভাজনমূলক রাজনীতি- দীর্ঘ শাসনে ক্লান্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলি ভোটার।
মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসীর সন্তান গাদি আইজেনকোট নির্বাচিত হলে প্রথমবারের মতো মিজরাহি অর্থাৎ উত্তর আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্য বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী পাবে ইসরাইল। সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি ২০২৫ সালে মধ্য-ডানপন্থী দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। সাম্প্রতিক জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়েও এগিয়ে তার মধ্য-ডানপন্থি দল।
রাজনৈতিক স্বার্থে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে নেতানিয়াহু সরকার, ঝুঁকিতে ফেলছেন ইসরাইলি জিম্মিদের- এমন সমালোচনা করে একসময় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন গাদি। এছাড়াও, প্রান্তিক শহরগুলোতে হিব্রু-আরবি ভাষায় স্লোগান দেয়ার প্রচারকৌশল, অভিজাততন্ত্রের কট্টর সমালোচনা, যুদ্ধে ছেলেকে হারানোর মতো কিছু বিষয় তাকে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে কট্টরপন্থি হলেও নেতানিয়াহুর অনেক সিদ্ধান্তে একমত আইজেনকোট। গাজা-লেবানন-ইরানে সামরিক অভিযান সমর্থন করেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন প্রতিরোধ, তেহরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ককে দুর্বল করার ক্ষেত্রেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে একমত তিনি। যদিও সংঘাতে ইসরাইলি কৌশলের সমালোচনা করে যুক্তি দেন, সামরিক সাফল্যে কূটনীতিও আবশ্যক।
প্রথমে গাজায় ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, হামাস-শাসন অবসানের প্রতিশ্রুতি দেন গাদি আইজেনকোট। এরপর ফের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। যদিও, তিনি আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ ও অবৈধ ঘাঁটি স্থাপনের বিরোধী। পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সরকারের বিতর্কিত ই-১ এলাকা নির্মাণ পরিকল্পনাকে ভুল আখ্যা দেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে কঠোর ব্যবস্থার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
তবে, নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত নয় আইজেনকোটের। ইসরাইলে কোনো একক দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠন নিশ্চিত করতে পারে না। ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটের আসন সংখ্যা ১২০। সমগ্র ভূখণ্ড একটি নির্বাচনি এলাকা হিসেবে গণ্য হয়। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নেসেটে আসন পায়। তাই কোনো একক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ৬১আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
সরকার গঠন করতে নেসেটে ৬১ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে সবচেয়ে বড় দলেরও জোট গড়তে ছোট-মাঝারি দলের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় সবচেয়ে বড় দলের সঙ্গে আদর্শগত মিল না থাকায় অন্য ছোট দলগুলো বিকল্প জোট গড়ে। ২০২১ সালে যেমন মাত্র ৬ আসন পেয়ে নাফতালি বেনেটও অন্য দলের সঙ্গে জোটে গিয়ে করে প্রধানমন্ত্রী হন।
তাই শেষ পর্যন্ত নেসেটের ৬১ আইনপ্রণেতার সমর্থন, অন্য দলগুলোকে জোটে টানার সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে ভূখণ্ডটির সরকার গঠন।





