মার্কিন-ইরান যুদ্ধঝুঁকি: প্রাণহানি সামলাতে ৭০ বছর পর মার্কিন সেনার গণকবরের মহড়া

কোরীয় যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে গণকবরের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী
কোরীয় যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে গণকবরের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ ও উচ্চমাত্রার সামরিক সংঘাতের মুখে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় নিজেদের সেনাদের সমাহিত করতে গণকবর খোঁড়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এ ধরনের মহড়া আর প্রয়োজন হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। কোরীয় যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিনী সাময়িকী নিউজ উইকের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে ৩য় কর্পস সাসটেইনমেন্ট কমান্ড এবং ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের সদস্যরা এক বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষতি হলে কীভাবে দ্রুত ও সাময়িকভাবে মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা করা যাবে, তারই মহড়া হিসেবে এ প্রশিক্ষণ চালানো হয়।

মহড়ায় ভারী বুলডোজার ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে সাময়িক গণকবর তৈরি করা হয়। এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল মৃতদেহগুলো যাতে পচে বিকৃত না হয়ে অক্ষত থাকে, যাতে পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। গত দুই দশকে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের পর সরাসরি বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার নীতি অনুসৃত হলেও সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ ধরনের তাৎক্ষণিক পরিবহন সম্ভব নাও হতে পারে।

মার্কিন সামরিক বিধান অনুযায়ী, উচ্চমাত্রার সংঘাতের মধ্যেও প্রতিটি সেনার মৃতদেহের মর্যাদা রক্ষা ও শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। ফোর্ট ব্র্যাগের এ প্রশিক্ষণে সেনা সদস্যদের পাশাপাশি দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চ্যাপ্লেন বা সামরিক ধর্মযাজকরাও সাময়িক গণকবর এবং ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ব্যবস্থাপনার জন্য অংশ নেন।

এএম