রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় অস্বীকার করলো মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচার কার্যক্রম
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচার কার্যক্রম | ছবি: সংগৃহীত
0

রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে সংঘটিত গণহত্যার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানকে বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। আজ (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজি) নিজের এমনই অবস্থান তুলে ধরে নেপিদো।

২০১৯ সালে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যেখানে ২০১৭ সালের রাখাইন অভিযানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের আওতায় আনা হয়। অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত এবং নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হয়। এমনকি নির্যাতন থেকে বাঁচতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং বলেছেন, ‘গাম্বিয়া প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযানটি সাধারণ নাগরিকদের নয়, সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।’

অন্যদিকে, গাম্বিয়া দাবি করেছে যে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংস করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা উল্লেখ করেছে, দীর্ঘকাল ধরে চলা নিপীড়ন এবং ২০১৬–২০১৭ সালের ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ তার প্রমাণ। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অস্থায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে বসবাস করছেন।

আদালত তিন সপ্তাহ ধরে প্রমাণ শুনবেন এবং পরে সিদ্ধান্ত দেবেন যে মিয়ানমার গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না। আইসিজির রায় কার্যকর করার নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও, গাম্বিয়ার পক্ষে রায় গেলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ বেড়ে যাবে।

হ্লাইং আরও বলেন, ‘গণহত্যার দায় প্রমাণিত হলে তা আমাদের দেশ ও জনগণের ওপর এক অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তবে এই কার্যক্রমগুলো আমাদের দেশের সুনাম ও ভবিষ্যতের জন্য মৌলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এএইচ