আজাদ কাশ্মীর ইস্যুতে লাহোরে বিক্ষোভ, আটক কয়েকজন

কাশ্মীরে বিক্ষোভ
কাশ্মীরে বিক্ষোভ | ছবি: সংগৃহীত
0

আজাদ কাশ্মীরের শাসনব্যবস্থা সংস্কারের দাবি ও নির্বাচনি সহিংসতার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে পাকিস্তানের লাহোরে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। কাশ্মীরে নির্বাচনি সহিংসতার প্রতিবাদে সোচ্চার নিষিদ্ধ সংগঠন জেএএসি’র প্রতি সংহতি জানিয়ে এদিন রাজপথে ছিল নাগরিক সমাজের একাংশ। সমর্থন দিয়েছে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। সমাবেশের আগে থেকেই শক্ত অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ।

আজাদ কাশ্মীরে শুরু হওয়ার ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে লাহোরে। কাশ্মীরের নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, সংরক্ষিত আসন বাতিল এবং অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিতে একাট্টা সাধারণ নাগরিক, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণের আগের দিনই ব্যাপক ধরপাকড়।

কাশ্মীর সংহতি সমাবেশ শিরোনামে কর্মসূচি ঘোষণা করে শুক্রবার লাহোর প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। অঞ্চলটির শাসন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্বাচনি সহিংসতার প্রতিবাদে সোচ্চার নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র প্রতি সংহতি জানাতেই এই কর্মসূচি’র আয়োজন।

এসময় আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল আজাদ কাশ্মীরের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড। সমাবেশ শুরুর পর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে আসে পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। তুলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিজন ভ্যানে।

আরও পড়ুন:

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কাশ্মীরের জন্য আওয়াজ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছিলেন তারা।’

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষ ও বিক্ষোভে গত ২৭ ও ২৮ জুলাই ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। প্রতিবাদী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি, জেএএসি জানায়, প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন এবং এর পরের দু’দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত।

কাশ্মীরের আইনসভার নির্বাচন মূলত এক দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে তিন দফায় ভোট নেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার ভোট ২ ও ১০ আগস্ট।

কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে উত্তেজনা থাকলেও কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক অবহেলার জেরে সম্প্রতি নাগরিক ক্ষোভ বেড়েছে। আর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন জেএএসি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

গেল জুনে এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে শেহবাজ শরীফ প্রশাসন। জেএসিসি’র মূল অভিযোগ, পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি সংসদীয় আসন ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় রাজনীতি ও আঞ্চলিক সংসদকে নিয়ন্ত্রণ করতে করছে।

এসএস