এদিকে কিয়েভে রাশিয়ার নতুন দফা হামলায় দু’জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া কৃষ্ণ সাগরের বুলগেরিয়া অংশে ইউক্রেনের মালিকাধীন জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে অস্থিতিশীল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দামের লাগাম টানতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি মনোযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ট্রাম্প দাবি করেন, তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া।
কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুধু একদিনেই ইউক্রেনের ছয় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। হামলায় বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্ধকারে ভুতুড়ে দিন কাটাচ্ছে ইউক্রেনের ইজিউম শহরের বাসিন্দারা। হামলা হয়েছে পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোতেও।
হামলা থেকে রেহাই পায়নি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও। সোমবার শহরটির একটি আবাসিক ভবনে রুশ হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। হামলা হয়েছে জলপথেও। বুলেগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের মালিকানাধীন একটি জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ জানিয়েছেন, চেলসি থ্রি নামক জাহাজটি বুলগেরিয়া উপকূল থেকে প্রায় ১৮ নটিক্যাল মাইল দূরে তিনটি ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনায় বুলগেরিয়ার অভিযোগের নিশানায় রাশিয়া।
আরও পড়ুন:
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের মতো অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও আলামত বলছে ঘটনার জন্য রাশিয়া দায়ী। এ কারণে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।’
এদিকে নীরবতা ভেঙ্গে ট্রাম্প ঘোষিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। আর ঝিমিয়ে পড়া শান্তি আলোচনায় গতি ফেরাতে ও পুতিনের মন গলাতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। গেল শুক্রবার মায়ামিতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের করণীয় ঠিক করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কিয়েভের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে উইটকফ এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
অন্যদিকে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের সাবেক আর্মি চিফ জানায়, সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে অসংখ্য রুশ সেনাকে হত্যার মাধ্যমে মস্কোর আক্রমণাত্মক ক্ষমতা ভেঙ্গে দিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের সাবেক আর্মি চিফ ওলেক্সান্ডার সিরস্কি বলেন, ‘আমরা রুশ ভূখণ্ডের এক হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটারের মতো দখল করেছি। অনেক স্থানে আমাদের হামলার মুখে রুশ বাহিনী পিছু হটেছে। অনেক বড় অভিযানের সক্ষমতা হারিয়েছে তারা।’
যদিও সাড়ে বছরের যুদ্ধে দু’পক্ষের ঠিক কত সংখ্যক সেনা প্রাণ হারিয়েছে তা প্রকাশ করেনি রাশিয়া-ইউক্রেন।





