শর্ত না মেনে ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দেয়ার হুমকি দেয় ইরান। তবুও হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলে লেবাননে হত্যা ও ধ্বসংসযজ্ঞ চালিয়ে যায় ইসরাইলি বাহিনী। গেলো ২ মার্চ থেকে দেশটিতে চালানো আগ্রাসনে নিহত ছাড়ায় দু’হাজার। বাস্তুচ্যুত হন ১২ লাখেরও বেশি বাসিন্দা।
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরাইল ও লেবানন। এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। জানান, যুদ্ধবিরতির এই প্রক্রিয়া হচ্ছে ইসলামাবাদের অধীনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের বোঝাপড়ারই একটি অংশ।
আরও পড়ুন:
এদিকে যুদ্ধবিরতির সময় হিজবুল্লাহ সংযত থাকবে বলে আশা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, লেবানন ইস্যুতে সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই হোয়াইট হাউসে আসবেন লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রপ্রধানরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এটা ছোটোখাটো কার্যকর একটি প্যাকেজ। এখন ওই অঞ্চলে আর একের পর এক বোমা হামলা হবে না। এর মধ্য দিয়ে লেবানন-ইসরাইলের মধ্যকার শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও আমরা পর্যবেক্ষণ করবো।’
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বেশ কিছু গ্রাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ অবস্থায় দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যেই হিজবুল্লাকে নির্মূলের মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে ইসরাইল ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে বলে মন্তব্য করেছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘লেবাননের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এই চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে এবং লেবাননের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানাতে চান। শান্তি আলোচনায় আমাদের দুইটি মৌলিক দাবি রয়েছে; প্রথমত, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। দ্বিতীয়ত, একটি টেকসই শান্তি চুক্তি, শক্তির মাধ্যমে শান্তি। যুদ্ধবিরতি অর্জনের জন্য হিজবুল্লাহ দুইটি শর্তের ওপর জোর দিয়েছিল, যার কোনোটিই পূরণ করা হচ্ছে না।’
এমন পরিস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কার পাল্লা ভারী হচ্ছে। তাই ওই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় চলমান এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বৈরুত ও তেলআবিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। অন্যদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ের ল্যাপিড। এসময় তিনি নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অন্যসব প্রতিশ্রুতির মতো এই যুদ্ধবিরতিও মুখ থুবড়ে পড়বে।





