গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর পরপরই বিশ্ববাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করে। তবে এই নৌ অবরোধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার পথে বাধা বলে মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। জানান, ইরানের বন্দর অবরোধ করে যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।
ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা নৌ অবরোধে ৩১টি জাহাজের দিক বদল করতে বা বন্দরে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নৌযানের বেশিরভাগই জ্বালানি তেলের ট্যাংকার বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম। এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, দেশটির ১৭টি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক বিমান অংশ নিয়েছে বলেও জানায় সেন্টকম। এদিকে এশিয়ার কয়েকটি দেশের জলসীমায় থাকাইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজকে বাঁধা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আরও পড়ুন:
এদিকে হোয়াইট হাউজ বলছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বাড়ানোর এই সময়সীমা কতদিন চলবে তা এখনো নির্ধারণ করেন নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে এই অচলাবস্থার নিরসনে ইরানের নেতারা একটি সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলে ট্রাম্প আশা করেন। এমন তথ্য দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট।
ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘আজ কিছু সংবাদে বলা হচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতির বাড়ানোর জন্য তিন থেকে পাঁচ দিনের একটি সময় দেয়া হয়েছে। এটি সত্য নয়। প্রেসিডেন্ট তেমন কোনো কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ পর্যন্ত কখন শেষ হবে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই নির্ধারণ করবেন।’
আরও পড়ুন:
তবে হোয়াইট হাউজের এমন মন্তব্যের পর এবার যুদ্ধবিরতির বর্ধিত সময়সীমা আগামী রোববারই শেষ হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি গণমাধ্যম কেএএন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা বলছে, তেহরানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেধে দেয়া সময়সীমা আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে। কেননা ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে তেহরানের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এমন আগ্রাসী আচরণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ বলে মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে আরাঘচি্ যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অপরাধগুলো তুলে ধরেন এবং অন্যায় এই আক্রমণের বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট ও সৃদৃঢ় অবস্থানের জন্য আহ্বান জানান তিনি।





