ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পর থেকে বিশ্ববাজারে বাড়ছে প্রায় সব পণ্যের দাম। জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ। যার বড় প্রভাব পড়েছে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ খাতে। প্রায় প্রতিটি দেশেই জীবন রক্ষাকারী ওষুধ থেকে শুরু করে গর্ভনিরোধক সামগ্রী সবকিছুর দামই এখন আকাশছোঁয়া।
যুদ্ধের পর সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বেশিরভাগ ওষুধের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। সাধারণ ব্যথানাশক প্যারাসিটামলের দাম বেড়েছে চারগুণেরও বেশি। এছাড়া, সাধারণ ব্যথানাশকের দাম ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ভারত।
মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামাল সংকটে পড়েছে ওষুধ কোম্পানিগুলো। কারণ এসব কাচামালের বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এছাড়া, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহনে খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ।
আরও পড়ুন:
চাপে আছে ইরানের স্বাস্থ্যখাতও। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে জরুরি ওষুধ সরবরাহে দেখা দিয়েছে ঘাটতি। প্রায় প্রতিটি ফার্মেসির দোকানেই ওষুধের মজুত ফুরিয়ে আসছে। তেহরানের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কার্গো বিমান চলাচল বন্ধ এবং পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় ক্যান্সারের ওষুধ, ব্যথানাশক এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে হাসপাতালে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইবন-সিনা হাসপাতালের প্রধান আরাশ আনিসিয়ান বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়াটা স্বাভাবিক। কেমোথেরাপির ওষুধের কিছু ঘাটতি রয়েছে। কার্গো চলাচল বিমান বন্ধ। ব্যথানাশক এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধেরও ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সংকট শুরু হবে।’
যুদ্ধ শুরুর পর ওষুধ ও নিত্যপণ্যের ঘাটতি মোকাবিলা করে এখনো টিকে আছে ইরান। তবে তা কতদিন পারবেন তা নিয়ে সংশয়ে বাসিন্দারা। ওষুধের মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফার্মেসিগুলো।





