ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক চার্ট দেখাছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক চার্ট দেখাছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে এমন দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আর এ হুমকি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের পুরনো ক্ষত ফের চাঙ্গা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, চীন ইস্যুতে ট্রাম্প বাস্তবে এটি কার্যকর করবেন না। যার অন্যতম কারণ এপ্রিলে ট্রাম্পের বেইজিং সফর ও নতুন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা।

ইরানের ওপর সব দিক দিয়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান উত্তেজনায় প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনায় রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছেন তিনি। এবার কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে এমন দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ হুমকির জেরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো উত্তেজনা আবারও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এ শুল্ক যদি চীনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্কের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। আর তাই যদি হয়, গত অক্টোবরে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ দমনে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার ওপর পানি ফেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

যদিও ট্রাম্প সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করেননি, তবে যদি চীন এর মধ্যে থাকে এর প্রভাব পড়বে বেইজিংয়ের ওপর। কারণ বিশেষ করে তেল বাণিজ্যের মাধ্যমে চীনই ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক লাইফলাইন। এছাড়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে একটু দুর্বল করাও অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে, যেটাতে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে।

অবশ যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে চীন একটু সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ইরান থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। এদিকে শুল্কযুদ্ধ প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুল্কযুদ্ধে জয় পরাজয়ের বিষয় নেই। চীন তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।

চীনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প হয়তো চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি এটি কার্যকর করবেন না। যার অন্যতম কারণ, এপ্রিলে ট্রাম্পের বেইজিং সফর। যে সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

এএম