শেয়ার জালিয়াতি: ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল

ইস্টার্ন ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট ভবন, সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী
ইস্টার্ন ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট ভবন, সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
0

​আইন ভেঙে নামে-বেনামে ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার দখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শওকত আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এক শেয়ারহোল্ডারের করা আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​আজ (বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর) বিচারপতি শওকত আলী চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, ইশরাত হাসান ও বিপ্লব কুমার দাশ।

​আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো একক ব্যক্তি বা পরিবার কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। অথচ শওকত আলী চৌধুরী নিজের, পরিবারের সদস্য ও বেনামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইস্টার্ন ব্যাংকের ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিজের কবজায় রেখেছেন।

​তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তেই এই শেয়ার জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। গত ২৯ মার্চ এ প্রতিবেদন তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

​এর আগে সাধারণ আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ইস্টার্ন ব্যাংকের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার কামরুল ইসলাম জনস্বার্থে এ রিটটি করেন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মোট ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

​তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শওকত আলী চৌধুরী তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মচারী এবং আত্মীয়দের ডামি বা কাগুজে শেয়ারহোল্ডার বানিয়ে এই শেয়ারগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেন। মাত্র এক লাখ টাকা মূলধনের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকের শত শত কোটি টাকার লভ্যাংশ তুলে নেন এবং তা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন। এসব অনিয়ম তদন্তে উঠে এলেও দীর্ঘদিন তা নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এসএস