নিউইয়র্ক প্রবাসী নওমি ইমতিয়াজ; মা-বাবার ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে হবে সেখানে। ২ মার্চের জন্য কুয়েত এয়ারওয়েজের তিনটি টিকিটও করেছিলেন তারা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল হয় তাদের। পুনরায় যাত্রার তারিখ পরিবর্তন হয় ৮ মার্চ। সেই তারিখেও যাত্রা অনিশ্চিত। এবার টিকিটের মূল্য ফেরত নেবেন নাকি অন্যকোনো ফ্লাইট ধরবেন- সেই চিন্তা করছেন এই প্রবাসী।
ডাক্তার নওমি ইমতিয়াজ বলেন, ‘কোনো কারণে যদি ফ্লাইট না করতে পারি তখন কী হবে। তখন আমাদের বারবার চেঞ্জ করতে হবে, বারবার সমস্যায় পরবো। সেজন্য আমি মনে করি আমাদের এখন অন্য রাউটে যেতে হবে।’
ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে বুধবার পর্যন্ত বাতিল হয় ১৭৬টি ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রায় সব ফ্লাইট আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের যাতায়াত সাময়িক স্থগিত রেখেছে।
আরও পড়ুন:
উড়োজাহাজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব যাত্রীর ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে তারা অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকেট রিফান্ড করতে পারবেন বা বিনামূল্যে যাত্রার তারিখও পরিবর্তন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে যাত্রীর পছন্দ মতো তারিখ নির্ধারণের সুযোগ নাও থাকতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, ‘যে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেটেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, আমাদের বিভিন্ন আউটলেট আছে সেখানে যোগাযোগ করতে পারে।’
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এয়ারলাইন্সের কারণে যদি কোনো ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়,তাহলে অবশ্যই যাত্রী কোনো চার্জ ছাড়াই রিফান্ড করতে পারবে। এছাড়া যে ফ্লাইটগুলোতে সিট অ্যালেইলেবল থাকবে, সে ফ্লাইটটাই চয়েজ হিসেবে নিতে হবে।’
এভিয়েশন বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ফ্লাইট বাতিলের মতো ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিক বড় ক্ষতি জেনেও উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো যাত্রীদের সঙ্গে উদারতা দেখাচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়া যাত্রীদের জন্য করে দিচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা- যা ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে।
এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘এই সময়ে যদি কারো ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় বা তারা যদি না যেতে পারে বা তাদের যদি কোনোরকম সমস্যা হয় এক্ষেত্রে কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো অন্যকোনো রাস্তায় যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে অথবা রিফান্ড চেলে রিফান্ডও করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলো কিন্তু অনেক উদারতা দেখাচ্ছে। তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে যাত্রীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়।’
এই অবস্থায় টিকিট কেনার পরও বিভিন্নভাবে দেশে-বিদেশে আটক থাকা যাত্রীদের বৈশ্বিক অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতি বিবেচনা করার অনুরোধ উড়োজাহাজ সংশ্লিষ্টদের।

 Minister Li Yunze-320x167.webp)



