রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ২০ শতাংশ এ তিন চাকার বাহনগুলো দায়ী। যেখানে প্রাণ হারিয়েছে ১,৩৯২ জন। ২০২৫ সালে ও দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক প্রায় ১৪ শতাংশ।
চালক ও পথচারীরা জানান, ব্যাটারিচালিত বাহনের জন্য গাড়ি নিয়ে চলাচলের সময় প্রচুর সমস্যা পরেন তারা।
গণপরিবহণের ঘাটতি, দ্রুত গতি ও তুলনামূলক কম ভাড়া, স্বল্প বিনিয়োগ, অধিক মুনাফা এবং লাইসেন্সের বালাই না থাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অটোরিকশা কারখানা। উৎপাদনেও নেই সরকারি কোনো বিধি নিষেধ। তবে নয়া সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ঘোষণা এসেছে, মূল সড়কে নিয়ন্ত্রণ করা হবে অটোরিকশা।
আরও পড়ুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেখানে ব্যাটারিচালিত তিনচাকার বাহন চলাচলের কথা না সেখানেও এসব চলাচল করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আর এয়ারপোর্ট রোড থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে আমরা চলাচল সীমিত করবো।’
তবে গত কয়েক বছরে দেশে এ অটোরিকশা ব্যবসার আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তৈরি হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান। এমন পরিস্থিতিতে এ বাহন নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধকরণ কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা সেই প্রশ্ন ছিল এ বিশেষজ্ঞের কাছে।
বুয়েট যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আসলে অঙ্কটা জটিল হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রায় পঞ্চাশ-ষাট লাখের বেশি এ অটোরিকশা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। আমরা ধারণা শুধু ব্যাটারি ইন্ডাস্ট্রি এখন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাজারে দাঁড়িয়েছে। এতে যদিও কর্মসংস্থান হয়েছে কিন্তু এর এখনও কোনো ফরমাল স্বীকৃতি কিন্তু হয়নি।’
আরও পড়ুন:
বিষফোঁড়া হয়ে ওঠা এ শিল্প আড়াল থেকে যে সম্ভাবনা উকি দিচ্ছে, সেক্ষেত্রে কেমন হতে পারে সরকারের নীতিমালা?
ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড মেনে যদি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি করতে পারে। তাদের ওই রকমের যদি টেকনিশিয়ান থাকে, দক্ষ শ্রমিক যদি থাকে তাহলে আমি কর্মসংস্থান হারানো কোনো শঙ্কা কারণ দেখছি না। কিন্তু যাদের এ অবস্থা থাকবে না, তাদের এখান থেকে বের হয়ে যেতেই হবে। এর আর কোনো বিকল্প নেই।’
কোনো নিয়মনীতির বাহিরে থাকা এ শিল্প সরকার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে তাই এখন বড় প্রশ্ন।





