ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি নির্ধারণ; ঈদের আগে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম

ইসমাইল জবিউল্লাহ
ইসমাইল জবিউল্লাহ | ছবি: সংগৃহীত
0

দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারী ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মানি নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মসজিদের ইমামরা পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা। আজ (রোববার, ৮ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি জানান, ঈদের আগেই প্রথম ধাপে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জায় দায়িত্বরতদের এই আর্থিক সম্মানির আওতায় আনা হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় পৌনে চার লাখ ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে এই সম্মানি কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

আগামী ১৪ মার্চ সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচিত উপকারভোগীদের কাছে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সম্মানির টাকা পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। তবে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে আনুমানিক ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সরকার চার ধাপে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা, ২০২৭–২৮ অর্থবছরে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, ২০২৮–২৯ অর্থবছরে প্রায় ৩৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৯–৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪০০ কোটি টাকা বাজেট প্রয়োজন হবে। এরপর থেকে প্রতি অর্থবছরে একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে।

এছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের এক হাজার টাকা করে ভাতা দেয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ ও যাজকদের দুই হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেয়া হবে।

এফএস