খালি চেয়ার দিয়ে শুরু হবে সংসদ; স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর: চিফ হুইপ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারি দলের সংসদীয় সভা
তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারি দলের সংসদীয় সভা | ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ
0

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন খালি চেয়ার দিয়েই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সরকার দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় এবার চিরাচরিত নিয়মে অধিবেশন শুরু হচ্ছে না। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (বুধবার, ১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজকের বৈঠকে সংসদের কার্যক্রমের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রথম দিনে সংসদ খালি চেয়ার দিয়েই শুরু হবে এবং কর্মকমিশনের চিঠি উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়েই আগামীকালের অধিবেশন শেষ হবে।’

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের জন্য আমরা সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি, তিনিই সিদ্ধান্ত দেবেন, আগামীকালকে আমরা জানতে পারবো। সংসদ উপনেতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।’

সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান চীফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘সংসদে আমরা (এমপি) কেমন আচারণ করব এবং কার্যক্রম কি হবে সে বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে যেহেতু স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, প্রথমে খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। সংসদ নেতা সভার সভাপতিত্ব করার জন্য জ্যেষ্ঠ কোন নেতার প্রস্তাব করবেন, এরপর কোন একজন সমর্থন করবেন এবং তিনিই সভার সভাপতিত্ব করবেন। সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করবো।’

এর আগে জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল বিএনপি। দলটি সরকারি দলের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে চীফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উদারতা দেখিয়ে এ প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে আমরা এখনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি। সাড়া পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকাল সংসদে আইনমন্ত্রী উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন চীফ হুইপ। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ কমিটি’গঠন করা হবে। এই কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে আর কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। আগামী ১২ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো আমরা পাস করার চেষ্টা করব।

প্রথম দিনের বৈঠকে কার্য উপদেষ্টা, প্রিভিলেজ কমিটি এবং হাউজ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান চীফ হুইপ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হলেই কালকের অধিবেশন মূলতবি করা হবে। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর পাঁচ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের সম্পর্কে আলোচনা হবে। এরপর দেশবরেণ্য মানুষ এবং বিদেশী বরেণ্য মানুষের বিষয়ে শোক প্রস্তাব থাকবে।

জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হয়েছিল, সেটার ভবিষ্যত কি এমন প্রশ্নের জবাবে চীফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

লিখিত বক্তব্যে চীফ হুইপ বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার লক্ষ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন হচ্ছে আজকের এই জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদ কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামীকাল থেকে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেটি হবে জনগণের সংসদ-দেশের মানুষের অধিকার, আশা এবং স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল সংসদ পরিচালনা করা। আমরা চাই সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ তর্ক ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হোক।’

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই প্রেক্ষাপটে আমরা দেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন কামনা করছি। একই সঙ্গে আমরা বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে-সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা, দারিদ্র্য দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তোলা। একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিশেষে, দেশবাসীর কাছে আবারও দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারি।’

এসএইচ