আজ (বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ তার দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৫ বছরেরও বেশি সময় আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকর্মী, কর্মচারী, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও দলের নেতা হিসেবে তার ছায়াতলে ছিলাম। তার অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে, যার সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনো ত্যাগের তুলনা করা যায় না।’
সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গণতন্ত্রকে অবমুক্ত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ‘দেশনেত্রী’ এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ খেতাব পেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে তার হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরায় যাত্রা শুরু হয়। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু এবং দেশে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতেও তার বড় অবদান রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া এক অপরাজিত নাম উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনীতিতে এমন রেকর্ড আর কারও নেই। তিনি যখন যেখানে, যত আসনে নির্বাচন করেছেন, সব কটিতেই জয়লাভ করেছেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এই নেত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবিরাম সংগ্রামের জন্য দেশের মানুষের কাছে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের যে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তার বিশাল এক অংশজুড়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব আমাদের অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছিল। এই অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই আজকের এই জাতীয় সংসদের ভিত্তি নির্মাণ হয়েছে।’
খালেদা জিয়ার স্বপ্ন পূরণে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে যে সুদৃঢ় বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করতে চেয়েছিলেন, আমাদের সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।’





