নদী জীবন্ত সত্তা, যার প্রাণ আছে, এর পাদদেশেই নানা অনুভূতি নিয়ে মানুষকে আবদ্ধ হতে হয় জল,জীবনের জন্য।
রাজধানীর বাড়ছে পানির চাহিদা। অপরদিকে কমছে বিশুদ্ধ পানির উৎস। ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার-ফেজ ১, ২; নারায়গঞ্জের গন্ধর্বপুর; পদ্মা এ ৪-৫টি পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক যে পরিমাণ পানি শোধন হচ্ছে তাও অপ্রতুল।
দূষণের কারণে নদীবেষ্টিত হয়েও ঢাকায় পানি আনতে হচ্ছে পদ্মা-মেঘনা থেকে। গভীর থেকে পানি উত্তোলন করতে গিয়েও খরচ বাড়ছে ওয়াসার। যে কারণে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গেলো মাসের প্রথম দিন থেকে প্রতি লিটার পানি ৮০ পয়সা থেকে দাম বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ১ টাকা নির্ধারণ করে।
ঢাকায় দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩১৫ কোটি লিটার, বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা ২৯৮ কোটি লিটার সরবরাহ করে হাজারের বেশি গভীর নলকূপ দিয়ে। আর এতে খালি হচ্ছে ভূগর্ভ। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা-ওয়ারপো ২৩-২৪ বার্ষিক প্রতিবেদন রূপকল্পতে বলা হয় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে অনাপত্তিপত্র মূল কার্য পরিধিতে রাখা হয়েছে, তবে একের পর এক গভীর নলকূপ স্থাপনে বেশি আগ্রহী ওয়াসা।
তবে এ বিষয়ে ওয়াসা অফিসে ঘোরাঘুরি করে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। নগরবাসী বলছেন, দূষিত পানির কারণে বেড়েছে ভোগান্তি।
আরও পড়ুন:
নদী গবেষকরা জানান, বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহন করতে হবে ওয়াসাকে। আর পরিবেশবিদরা বলছেন, গভীর নলকূপের ওপর কমাতে হবে অতিনির্ভরতা।
রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের ফেলো মোহাম্মদ আমিনুর রসুল বাবুল বলেন, ‘আমাদের ওয়াসা নামের একটা প্রতিষ্ঠান আছে, যারা শুধু প্রকল্প গ্রহণ করে। যেমন “২০৩০ সালের মধ্যে আপনাকে পানি খাওয়াবো” বলতেছে। সে পর্যন্ত ঢাকা শহরে আরও যে মানুষের চাপ বাড়বে, সেই পরিকল্পনা তার কাছে নেই। সেই পরিকল্পনা আবার রাজউকের কাছে। আর রাজউকের নির্ভরশীলতা স্থানীয় সরকারের ওপর।’
পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘আমাদের জলাধারগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া পুকুর কমে যাওয়া, খালগুলো দখল-দূষণ হয়ে যাওয়া—ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ার জন্য এগুলো অন্যতম কারণ।’
অপরদিকে পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহর কংক্রিটের আচ্ছাদনে ঢেকে যাওয়া, আরেকদিকে খোলা মাটির অংশ কম হওয়ার কারণে পানি রিচার্জ হচ্ছে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ‘আমরা যে পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে পারতাম বা পারা উচিত, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি পানি তুলছি। তবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা বাড়ানো উচিত নয়।’
এ বছর গ্রীষ্মকালের গরমে পানি ব্যবহারের মাত্রা অনেক বেড়ে যাবে, ঢাকায় এখনও গভীর নলকূপ থেকে তোলা হয় ৬০ থেকে ৭১ শতাংশ পানি।





