শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক পরীক্ষা যেই টাইমে হয়, সেই টাইমে হবে। আপনি (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) কি চান, আমরা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রত্যেকটি ছাত্রের জীবন থেকে এসএসসি পাশ করার সময় এক বছর নিয়ে যাবো? এইচএসসি পাশ করার সময় এক বছর নিয়ে যাবো? এটা কি আপনারা চান? তাহলে প্রশ্নটা কি? কবে প্রশ্নটা আসলো কেন? জানুয়ারি থেকে ক্লাস ডিসেম্বরে শেষ, আমি তো জানিই যে ডিসেম্বরে শেষ।’
ডিসেম্বরে কোর্স শেষ হলে পরীক্ষা কবে হবে— এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোর্স জানুয়ারিতে শুরু করি ডিসেম্বরে শেষ করি। তো আমার কোর্স শেষ হলে আমি পরীক্ষা নেবো, এটা জানান আর না জানানোর কী হলো? আমি তো ক্লিয়ারলি বললাম কোর্স কমপ্লিট করতে হবে ডিসেম্বরে। আমি আনক্লিয়ার কী বললাম?’
আরও পড়ুন:
জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরে আরেকটা পরীক্ষা নেয়ার ক্যাপাসিটি বোর্ডগুলোর আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বোর্ডের ক্যাপাসিটি দিয়ে তো আমি চলি না, আমি চলি ছাত্ররা লেখাপড়া করছে কি না। বোর্ড আমার জীবন থেকে এক বছর নিয়ে নেবে? বোর্ডের ক্যাপাসিটি হলো কি না হলো। বোর্ডের কারণে পরীক্ষা পেছাবো, এটা কোনো কথা হলো। আমি বোর্ডের কারণে পরীক্ষা কেন পেছাবো?’
শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ করার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের সিলেবাস দেয়া হয়েছে ১২ মাসের জন্য তারা ১২ মাসে পড়বে। বোর্ডের দায়িত্ব হচ্ছে পরীক্ষা নেয়া, বোর্ড পরীক্ষা নেবে। বোর্ড ফেইল করলে বোর্ডের পানিশমেন্ট হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা ফেইল করলে শিক্ষকরা পানিশমেন্টে যাবে। আমি বোর্ডের জন্য ২০ লাখ ছাত্রের জীবন থেকে এক বছর করে ২০ লাখ বছর নষ্ট করে দেবো এটা কি হয়?’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষাবর্ষ যেখান থেকে শুরু হবে তাদের কোর্স ঠিক সেইভাবে শেষ করা হবে। পরীক্ষা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষার দিন রুটিন দেয়া হবে বলে ট্রল করা হয়েছে, তবে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওই যেমন ট্রল করেছে আমাকে নিয়ে, পরীক্ষার দিন রুটিন দেয়া হবে। সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন আমাকে এখন কল করেছে একটু আগে। বলছে মিলন ভাই, এটা কী বললেন? পরীক্ষার দিন আপনি রুটিন দিবেন? আমি তো রতন আমি তো ভেবেছি, পরীক্ষার রেজাল্ট আউট হওয়ার পরে রুটিন দেবো। যেহেতু ভার্চুয়াল মব বলছে, পরীক্ষার দিন আমি রুটিন দেবো, এটা দেশ ছাইয়ে গিয়েছে। তো সেই জন্য আমি বলছি না রতন, আমি চিন্তা করেছি রেজাল্ট আউট হওয়ার পরে রুটিন দেবো। তো এই প্রশ্নের উত্তরে আমি কী দেব বলেন? বাচ্চাদেরকে ভয় পাওয়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।’
তিনি বলেন, ‘কোর্স যদি জুলাইতে হয় আমাকে যদি এই কোর্স জুলাই পর্যন্ত যেতে হয় তাহলে ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবে না? ছাত্র ছাত্রীদের জীবন থেকে এক বছর চলে যাবে। অতএব আই উইল সেট আপ দ্য সিলেবাস কারিকুলাম ইন দিস ওয়ে, যে কেউ যেন বোর্ডের পরীক্ষা নেয়ার জন্য এই সময়টা নষ্ট না হয়।’
আরও পড়ুন:
গেল কয়েকদিনে হেলিকপ্টারে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ঘুরে শিক্ষকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। অনেকের দাবি সেখানে দুর্নীতি হয়েছে। সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তুমি (একজন সাংবাদিককে দেখিয়ে) তো আমার সঙ্গে ঘুরছো প্লেনে। ওই যে ও বলছে দুর্নীতি হইছে, তুমি আমার সঙ্গে ঘুরছো প্লেনে। বলে দাও তোমারেই তো কলিগ বললো যে ওখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমি গেলাম সারা দেশ ঘুরলাম কেন? ২০ বছর পরে মন্ত্রী হইছে নাকি? শিক্ষকদের তো জানতে হবে হোয়াট ইজ দেয়ার স্ট্যান্ডার্ড, হোয়াট দে ওয়ান্ট। দিস ইজ মাই ডিউটি টু আন্ডারস্ট্যান্ড নাকি? তো আমার সঙ্গে দুই জন সাংবাদিক তো যাবেই। তারা দেখবে না? তারা এডুকেশন বিটের। এটার জন্য আরেকজন বলে বসে দুর্নীতি হইছে। তো তুমি (সেই সাংবাদিককে) এখন সাক্ষী দাও কত টাকার চাঁদাবাজি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সঙ্গে কাকে নেবো এটা আমার ব্যাপার। এটার সঙ্গে প্রশ্ন করার কিছু নাই। সো হোয়াই ইউ ফিল জেলাসি? ইউ ওয়ান্ট টু গো, ইউ কাম উইথ মি। সেই জন্য তো এইটা হইতে পারে না একজন পোর্টালকে নিয়েছি বলে দুর্নীতি করছি। ইজ ইট দ্য সেম থিং? আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় আপনি কি তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে পারেন না? আমি আমার টাকায় কাকে নেবো না নেবো দিস ইজ মাই বিজনেস। এটা তোমার যদি প্রয়োজন হয়ে থাকে তুমি বলতে তুমি যাবে।’
আরও পড়ুন:
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এটা দুর্নীতি হয়েছে তুমি এই একুইজিশান টা আনলে কেন? এম আই দ্যাট মিনিস্টার? আই ইউজ টু ফ্লাই হেলিক— নো নো নো, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড আই ওয়াজ দ্যাট মিনিস্টার হু টুক দ্য হেলিকপ্টার বাই মাই ওন এক্সপেন্সেস। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলি নাই? আমি ওই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি করবে ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না। আমি তা করছি, এখনো করছি। আজকেও একজনকে বিদায় দিয়েছি। ওকে? তাহলে এখন আমি কাকে নিলাম এই কোশ্চেন? আই গো উইথ মাই মানি, আই গিভ মাই মানি। তুমি যদি যেতে চাও তুমি চলো আমার সঙ্গে। বাট এই ধরনের অভিযোগ করা আই ডোন্ট একসেপ্ট ইট।’





