ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরাতে সব সরকারকেই হিমশিম খেতে হয়েছে। নানা ফর্মুলা প্রয়োগ করেও সফলতা মেলেনি। তবে নয়া সরকার ট্রাফিকে শৃঙ্খলা মানাতে নিয়েছেন নয়া ব্যবস্থাপনা।
ঢাকার রাস্তার ট্রাফিক আইন মানাতে প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে আধুনিক এআই ক্যামেরায়। এ ক্যামেরা সয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা।
সিগন্যাল ভাঙা, জেব্রা ক্রসিং অমান্য ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ ৬টি আইন ভাঙলে সাথে সাথে মামলার কাগজ মুঠোফোনে চলে যাবে গাড়ির মালিকের কাছে। কতটুকু সচেতন হলো মানুষ?
পথচারীরা জানান, আইন সবার জন্য ভালো। আইন প্রয়োগ করলে এটা ভালো। আইন মানা উচিত সবার জন্য।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে দুটি পয়েন্ট, সোনারগাঁও এর সামনে ৩ টি পয়েন্টে, বাংলা মোটরের দুটি পয়েন্টে, বিজয় সরণির ১টি পয়েন্টে, জাহাঙ্গীর গেটের ২টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তবে এই ক্যামেরা স্থাপনের ড্রাইভারদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরলেও পুলিশ বিপাকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে।
পুলিশ জানায়, অনেকটা পরিবর্তন হইছে। মানুষও আগের থেকে অনেক সচেতন হইছে। ড্রাইভার ভাইরাও কিন্তু আগের থেকে মানে এখন আমাদের হাত দিয়ে সিগন্যাল তেমনটা দেওয়া লাগে না। যারা মানে এখানে নতুন, তাদেরকে একটু দেয়া বোঝানো লাগে যে এখানে এআই ক্যামেরা বসানো হইছে, আপনারা একটু সচেতন থাকবেন। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা তারা ভয় পাচ্ছে না। তাদের কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।
ধীরে ধীরে রাজধানীর সব সিগন্যাল পয়েন্ট এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, তো এআই বেসড ক্যামেরা দিয়ে যে সুবিধাটা হচ্ছে যে আগে যখন ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ট্রাফিকের লোকজন যখন একটা গাড়িকে সিগন্যাল দিতো তখন মানতে চাইতো না। অনেক সময় গাড়িটাকে আটকানোর পরে দেখা যেতো যে ওই গাড়ির মালিক হয়তো সিনিয়র কোনো কর্মকর্তা। কিন্তু মেশিন তো পুরো ইমপার্শিয়াল। সে মামাকেও চেনে না, খালাকেও চেনে না, মন্ত্রী-মিনিস্টার কাউকেও চেনে না। সে চেনে অপরাধটা।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কতটা কার্যকর হবে, সেটি সময় বলে দেবে। তবে আপাতত রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরা আনছে নতুন শৃঙ্খলার স্বস্তি।




