জীবনকে কোনো এক স্বপ্ন ভেবে নিরন্তর এ ছুটে চলা। মধ্যবিত্তের সীমাবদ্ধ আয়ের শেষ গন্তব্য যখন নিজস্ব আবাসন, তখন নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট হতে পারে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। কেননা, বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপাদান রড ও ইস্পাতের উৎপাদন পর্যায়ে কর ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
মধ্যবিত্তের আবাসনের তালিকায় রাজধানীতে রয়েছে মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও বনশ্রীর মতো এলাকা। ৫ বছর আগে এসব এলাকায় প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিলো ৫ হাজার টাকা। আর বছরখানেক আগে, প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের গড় দাম ছিলো ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে ফ্ল্যাট ভেদে এ দাম এখন বাড়বে ২০ শতাংশ করে। অর্থাৎ ১৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আগে কিনতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা লাগলেও এখন গুনতে হবে দেড় কোটির টাকার বেশি। আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভবন নির্মাণের ব্যয় বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রাহক পর্যায়ে।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘এ বাজেটে বস কিছুর দাম কোনোটার ১০ শতাংশ, কোনোটার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়ছে। যার ফলে আবাসন খাতের সব কিছুর দাম বেড়ে যাবে।’
এদিকে, আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে যারা নিজের জমি দিয়ে চুক্তি করে ফ্ল্যাটের মালিকানা বুঝে নিতেন, তাদের জন্যও অপেক্ষা করছে নতুন অস্বস্তি। এতদিন, জমির মালিকদের দেয়া সাইনিং মানির ওপর সরকারকে দিতে হতো ১৫ শতাংশ কর। বাজেটের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ডেভেলপারের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। সব মিলিয়ে ৩০ শতাংশ করের বোঝায় বেশিরভাগ মধ্যবিত্তের ফ্ল্যাট মালিক হওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
একজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকার হয়তো ভাবছে এভাবে অনেক টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে। কিন্তু আমি বলবো এভাবে অনেক রাজস্ব হারাবে। এ ব্যবসাটা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। আর যারা জমির মালিক তারা পথে বসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
নিজভূমিতে একবার কর দিয়ে ভবন বানানোর পর, ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়ার সময় নতুন কিছু ‘অর্জিত’ হয় না- এমন যুক্তিতে প্রস্তাবিত করের বিরোধিতা করছেন অর্থনীতিবিদরা। নির্মাণ সামগ্রীর বর্ধিত দাম আর গেইন ট্যাক্সের চাপে মধ্যবিত্তের ‘এক টুকরো আশ্রয়’ হাতের নাগালের থেকে বাইরে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসে বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘যারা ব্যবসায়ী তারাভাবে আমি যে জমি পাচ্ছি তার দিয়ে যে ফ্ল্যাট বানাচ্ছি তার অর্ধেক পাচ্ছে। জমির মালিক পাচ্ছে। আর সেখানে সরকার কর বসিয়েছে। এখানে কর কীভাবে হয় সেতো আর ফ্রিতে ফ্ল্যাটের মালিক হচ্ছে না। এখানে কত টাকা আয় হচ্ছে তার ওপর ভিত্তিকরে কর নেয়া যেতে পারে, কিন্তু তা তো নির্ধারিত না। তাহলে এভাবে কর হবে কেন?’
গৃহঋণে অন্যান্য শিল্পের মতো চড়া সুদ না রেখে এক অঙ্কের সুদে সহজ ঋণ চালুর পরামর্শ দিচ্ছেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা।





