আজ (সোমবার, ২২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদিন লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করেন স্পিকার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্টচেকিং, সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের দক্ষতা এবং তথ্য যাচাই–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) থেকে “শিকারি সাংবাদিকতা” শীর্ষক একটি গবেষণা গ্রন্থও প্রকাশ করা হয়েছে।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অপপ্রচার রোধে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়ে করা প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) “বাংলাফ্যাক্ট” কার্যক্রম তৎপর রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ২২৯টি করা হয়েছে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর।’
তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি পিআইবি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ১২৩টি প্রশিক্ষণ/কর্মশালায় ৫ হাজার ৯৭৭ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ১০টি প্রশিক্ষণে মোট ৩৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে অন্তত একদিন প্রশিক্ষণার্থীদের গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রচার করে থাকে এমন ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে “বাংলাফ্যাক্ট”। বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এমন ৩০০টির অধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট, রিল ও ভিডিও প্রকাশ করছে। গণমাধ্যমকর্মীদের সুবিধার্থে শিগগির “ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল” প্রকাশিত হবে।’
গণমাধ্যম ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদীরা কীভাবে বিরোধীদের দমন ও তাহাদের চরিত্রহনন করে, তা লয়ে সম্প্রতি পিআইবি হতে ‘শিকারি সাংবাদিকতা ‘ শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।





