২৪ এর জুলাইয়ে নাহিদ ইসলামের পরিচয় ছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক। পরে জুলাই আসার আগে দায়িত্বে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার চেয়ারে। আর ৩য় বছরের জুলাইয়ে তিনি সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানপরবর্তী নানা ঘটনার সম্মুখসারির এ চরিত্র এখন টেলিভিশনের কাছে তুলে ধরেন প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির নানা খতিয়ান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরাও মনে করি আমাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা বা কিছু জায়গায় ভুল ছিল।’ অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পথের কাঁটা ছিলো রাজনৈতিক দলগুলো। নাহিদ ইসলামের ভাষায়, সরকারের ভেতর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আঁতাত করে বাঁধা দেয়া হয়েছে সংস্কারে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যাদের সহযোগিতা আমরা চেয়েছিলাম ৫ই আগস্টের পরে, এবং প্রধান দল হিসেবে যারা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে, তো তাদের থেকে তো সেই সহযোগিতাটা সেই সবাই আসে নাই। অন্তর্বর্তী সরকারের ভিতরেও আমাদের কাছে এমন কিছু লোক হয়তো ছিল যারা সংস্কারের বিপক্ষেই কাজ করেছে বা যারা নানা রাজনৈতিক শক্তির সাথে আঁতাত করে চলেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো সরকারের ভিতর আরেক সরকার। সাম্প্রতিক এমন অভিযোগের জবাবে নাহিদ ইসলাম স্বীকার করে বলেন, সেই অংশে যুক্ত ছিলো না ছাত্রনেতারা।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস তিনি বা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে যাদেরকে নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন তাদের সাথে হয়তো আলোচনা করতেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হয়তো তিনি স্পেসিফিক কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা করতেন। এটাকে এখন হয়তো কিচেন ক্যাবিনেট বলা হচ্ছে। প্রথমত আমরা সেটার পার্ট ছিলাম না।’
তবে, সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা নিজেদের দপ্তরের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর জন্যই কিচেন কেবিনেটের নামে অভিযোগ সামনে আনছেন পাল্টা অভিযোগ নাহিদ ইসলামের। তার প্রশ্ন, কাজের সুযোগ বঞ্চিত এসব উপদেষ্টারা কেনো সে সময় পদত্যাগ করেনি?
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেক ইন্টারেস্ট কনফ্লিক্ট হইছে। অনেকে এখন এসে না, এখন এসে যারা বড় বড় কথা বলে, আমি মনে করি তাদের সেই সময় মুখ খোলা উচিত ছিল। তারা যদি কোনো কাজ করতে না পারে বা তাদের সেই সময়, তাহলে তাদের সেই সময় রিজাইন করা উচিত ছিল। এখন দায় না নেয়ার জন্য, মানে অন্তর্বর্তী সরকার এখান থেকে দায়টা দেয়া হচ্ছে কিচেন ক্যাবিনেট, এখান থেকে দায়টা দেয়া হবে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, কখনো দায় দেয়া হয় ছাত্রনেতৃত্বদের। তো এইটা হচ্ছে বল পাসিং হচ্ছে।’
তবে, সরকারের প্রভাববিস্তারকারী সেই কুশীলব কারা? এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সেটা তো আমরা ছিলাম না যেহেতু আমি তো আর জানি না।’





