চাকরি, বদলি, পদোন্নতি, বাণিজ্য, এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নসহ হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন তদবিরকারীরা। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা মূলত বেশি আসেন মন্ত্রী এমপিদের কাছে।
তবে তদবির নয়, সরকার সবক্ষেত্রে মেধার গুরুত্ব দেবে বলে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তদবিরের কারণে চাপ বাড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও তদবিরের ধরন বদল হয়নি। আগেও যেভাবে চলতো এখনও সেভাবে চলছে।
মো. রেজাউল হোসেন আদরের কথাই ধরা যাক। তিনি এসেছেন শরীয়তপুর থেকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বাবাসহ পরিবারের ছয়জনের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি নিয়ে।
ভুক্তভোগী রেজাউল হোসেন আদর বলেন, ‘আমাদের ৬৫ একর জমি জবরদখল করে রেখেছেন ভূমিদস্যুরা। আমার বাবা এবং আমার দাদাকে হত্যা করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটি আর্জি, যেন তাদেরকে আইনের মাধ্যমে, আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হয়।’
আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, আবদারের ধরন বুঝে তিনি প্রয়োজন মেটান। তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানোর দরকার মনে করলে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এই যেগুলা আবদার করে, সেগুলা তাৎক্ষণিকই করতে হয়। তখনই না করলে এক ঘণ্টা পরে, দুই ঘণ্টা পরে করতে হয়। আবদার করে কারও ছেলে ভর্তি হতে পারছে না, টাকা দরকার। আবদার করে কারও চিকিৎসার টাকা নাই, টাকা দরকার। কেউ ডায়ালিসিস করবে, তার টাকা নাই, টাকা চাচ্ছে। বেশিরভাগ নিজের মধ্যে যেটা আমরা সরকার থেকে পাই ঐচ্ছিক তহবিল, সে তো যথেষ্ট না। সেই ঐচ্ছিক তহবিলের সঙ্গে আমাদের নিজেদের টাকা দিতে হয়। আর এটা প্রতি মাসে অনেক টাকাই দিতে হয় আমাদের।’
কর্মীদের কথা শোনা ও অভাব-অভিযোগ আমলে নেয়া রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাজের একটি অংশ বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘সেটা যাতে প্রকৃত শাস্তি হয়, যে কিছুক্ষণ আগেই একটা ছেলের ব্যাপারে পটুয়াখালীর পিপিকে বললাম। তার ভাইকে হত্যা করেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। তো হত্যা করার পরও এখনো মামলাটা চলছে, আমাদের স্থানীয় যারা আইনজীবী আছে তারাও গিয়ে করছেন, বিষয়টা দেখছেন। তো আমি তারপরেও যিনি ওখানকার আমাদের সেক্রেটারি পার্টির অ্যাডভোকেট টোটন সাহেব ওনাকে বলে দিলাম যে, তারা এটা একটু ত্বরান্বিত করার জন্য দেখুক। ওই সময় তো ভাই মারা গেছে ছাত্রদল নেতা এই কারণে, কিন্তু বিচারও পেত না। এখন কমপক্ষে যেন তারা বিচার পায়। এইভাবেই প্রতিনিয়ত বলি এবং এটা তো আমাদের এই এই কাজটা তো করা উচিত, বলা উচিত।’
তবে তদবির ও আবদারের কারণে কখনো কখনো অস্বস্তির মধ্যে পড়েন মন্ত্রী-এমপিরা।





