তারা জুলাই শহিদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ইশরাক হোসেন
ইশরাক হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
0

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, শহিদ পরিবারের সদস্যরা তাদের (এনসিপি) নিয়ে যেসব কথা বলেছেন, আমি যদি সেগুলো বলি, তাহলে তাদের রাজনীতিও আর থাকবে না। তারা যে কবরের টাকা মেরে খেয়েছে, সেটা কি আমরা বলেছি? জুলাই ফান্ড নিয়ে আমরা যদি অডিট করি, তাহলে তাদের কী অবস্থা হবে? অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তারা যে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল, এখন সেই ক্ষমতা হারিয়ে তারা পাগলপ্রায় হয়ে গেছে। এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে আছে, যা প্রকাশ করলে তারা মুখ লুকানোর জায়গা পাবে না।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বললেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেনি। ফলে বিএনপি সরকার আসার পর এই অধিদপ্তর গঠন করে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা তাদের গেজেটভুক্ত করার জন্য কাজ করছি। জুলাই শহিদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি গিয়ে দেখি কবরের কোনো চিহ্নও নেই। তারা কবরের টাকা মেরে খেয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ১৪ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এটি তারা অনেক বড় অন্যায় করেছে। জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের কল্যাণে আমরা কাজ করছি। যারা আহত হয়েছেন, তারা যাতে সঠিক চিকিৎসা পান, সে জন্য কাজ করছি। শহিদ পরিবারকে প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা দেয়া হচ্ছে। মাসিক ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা দেয়া হচ্ছে। আমরা ১২ মাস ফ্যাসিবাদী হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এজন্য আমরা ১২ মাসের যোদ্ধা। জুলাইকে ব্যবহার করে একটি ছোট গোষ্ঠী এর কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। এটি কোনো রাজনীতি হতে পারে না। আমি বলব, তারা একটি দোকান খুলে বসেছে। রাজনীতি করতে হলে নীতির প্রয়োজন, যা তাদের নেই।

আরও পড়ুন:

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘গেজেটভুক্ত ৮৪৩ শহিদের প্রত্যেক পরিবারের কাছে আমি যাব। তাদের কথা শুনব। তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। যারা আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে যারা কর্মক্ষম, তাদের চলার ব্যবস্থা করা হবে। যারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের জন্য সরকার আলাদা পরিকল্পনা করছে। আর যারা কর্মক্ষম রয়েছেন, তাদের জন্যও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের দাবি, একমাত্র বিএনপির গণহত্যা বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কোনো ইতিহাস নেই। বিরোধীদলের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো ভুলবে না।

‘গতকালের অনুষ্ঠান বানচাল করতে একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মব চালানো হয়। দ্বিমত থাকলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভ্যভাবে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। কিন্তু যেকোনো অজুহাতে তাদের কাল গোলযোগ করার পরিকল্পনা ছিল। তাদের এই আচরণে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে,’ যোগ করেন ইশরাক।

এসএস