আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ (রোববার, ৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বর্তমানে খসড়া হিসেবে থাকা ‘‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’’-এ গুমের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে, তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়া হয় না এবং তাকে আইনগত সহায়তা নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়—তাহলে সেটিকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাউকে দীর্ঘদিন অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার ঘটনাও এই আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের গুমকে একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।’
তবে সব গুমের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা যাবে না বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোনো একটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন বা স্বতন্ত্র গুম হিসেবে সংঘটিত হলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর বিচার সংশ্লিষ্ট আদালতে হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুমের ঘটনা যদি ব্যাপক মাত্রায় হয় অথবা একই প্যাটার্নে কিংবা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’
তিনি জানান, এ ধরনের ব্যাপক বা পদ্ধতিগত গুমের ঘটনাগুলোই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্তে থাকা কোনো ঘটনা যদি স্বতন্ত্র গুম হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় না পড়ে, তাহলে সেগুলো সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। একইভাবে ট্রাইব্যুনালে তদন্তের অপেক্ষায় থাকা এমন ঘটনাগুলোও সংশ্লিষ্ট থানা বা আদালতে পাঠানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘ওই আইন অনুযায়ী আমাদের আর কোনো এখতিয়ার থাকবে না। আমাদের শুধু ব্যাপক মাত্রায় অথবা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত ও বিচারের সুযোগ থাকবে।’
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’ এ প্রচলিত পদ্ধতিতে তদন্তের বিধান রাখা নিয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রচলিত পদ্ধতিতে তদন্তের বিষয়টি রাখা নিয়ে তিনি বড় ধরনের কোনো অসংগতি দেখছেন না।’





