বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন সাইমা ওয়াজেদ। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘যেহেতু আপনি আমাকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে যাচ্ছেন, তাই ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বে আপনার ওপর থেকে আমি সমস্ত আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছি।’ প্রায় এক বছর ধরে কোনো বেতন না পাওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়া এবং প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন।
এই সংকটের সূত্রপাত ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাইমা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, সনদ জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগে মামলা করে।
দুদকের করা এই মামলার পরপরই আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই সাইমা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। পরবর্তীতে তাকে কোনো বেতন ছাড়া ছুটিতে রাখার সিদ্ধান্ত বলবৎ রাখা হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও সাইমা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে।
রয়টার্সের হাতে আসা সাইমা ওয়াজেদের আইনজীবীর চিঠি ও ডব্লিউএইচওর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে চীন সফরে ভ্রমণ ব্যয় সংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতি এবং নিজের একাডেমিক যোগ্যতা ও ডিগ্রির বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের সুবিধার্থে প্রণীত আইনের আওতায় অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
তবে সাইমা ওয়াজেদ ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভ্রমণ ব্যয়ের বিষয়ে আইনজীবীদের দাবি, সহকারী পর্যায়ের প্রশাসনিক ভুলের কারণে ৯০১ ডলারের একটি হিসাব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। একাডেমিক যোগ্যতার বিষয়ে তার দাবি, অটিজম খাতে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন, যা সম্পর্কে ডব্লিউএইচও প্রধান আগেই অবহিত ছিলেন।
সাইমা ওয়াজেদের পদত্যাগের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হলো। ডব্লিউএইচও সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সংস্থাটি ইতোমধ্যে নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী ১২ অক্টোবর নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করা হবে, ডিসেম্বরে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বছর ২৪ জানুয়ারি ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।
—রয়টার্স প্রতিবেদন অবলম্বনে





