গতকাল (বুধবার, ১৪ অক্টোবর) রাজধানীর সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ‘নারী অধিকারবিরোধী প্রতিক্রিয়া এবং রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব সুদৃঢ়করণের উপায়’ শীর্ষক উন্মুক্ত বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক খাওয়ার মমতাজ, কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অ্যাফিলিয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. আফরা জালাবি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ।
পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক খাওয়ার মমতাজ বলেন, ‘নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণকে প্রায়ই পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব হিসেবে চিত্রিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা হয়। নারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের দমনের চেষ্টা চলে।’
এছাড়া নারীদের বিরুদ্ধে এই প্রতিক্রিয়া এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।
কানাডার আফরা জালাবি মনে করেন, নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, ‘নারীদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াকে মোকাবিলা করতে নিজেদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে নতুনভাবে বোঝা এবং নারীর অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগানো জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের এমন এক অদৃশ্য ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা জেলার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘নারীরা রাজনীতিতে এলে সব দিক থেকেই বাধার শিকার হয়। আমরা যে নারী নেতৃত্ব দেখি, সেটি আসলে প্রতীকী নেতৃত্ব। এর পেছনেও পুরুষরা থাকেন এবং তারা নারীদের নিজেদের মতো পরিচালিত করতে চান।’
পেশিশক্তির দাপটে নারীর নেতৃত্বকে থামিয়ে দেয়া হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যেতে হলে নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ আয়োজনে মানবাধিকারকর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যারোমা দত্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন সজীব সরকার, সোশিওলোজি অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন ফজিলা বানু লিলিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।





