শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগের মতো ৫টি নদী ঢাকার চারপাশে বহমান, যা এই শহরের প্রাকৃতিক সীমানা এবং জলপথ হিসেবে ভূমিকা রাখছে তিলোত্তমার হৃদপিণ্ড হয়ে।
নদী জীবন্ত সত্তা, কলকল স্রোতধারায় সেই বার্তা দিয়ে যাচ্ছে রোজ। তারপরও হচ্ছে দখল, দূষণে অনেক খাল এখন মৃতপ্রায়। এই হতাশার মধ্যেই আসছে আশা জাগানিয়া খবর।
দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল, ওয়াকওয়ে নির্মাণ করবে সরকার। করা হবে খাল পুনঃখনন, কাদা অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজ। জোর দেয়া হবে সুরক্ষা বেষ্টনী ও সবুজায়নের ওপর। পরিবেশদূষণ ঠেকাতে নির্মাণ করা হবে আটটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট।
আরও পড়ুন:
নগরবাসীরা বলছেন-- খাল পুনরুদ্ধার না করলে শহরের স্বকীয়তা, আবেদন মুখ থুবড়ে পড়বে, তৈরি হবে নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকি। জানান, বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে হলে নদী ও খালের হারিয়ে যাওয়া স্রোত ফিরিয়ে আনতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, এই পানি দূষিত ফলে এ স্থানের মাছ খাওয়ার উপযোগী না। পানির জন্যই তারা বেশি অসুবিধায় আছেন বলে জানান তারা।
পরিবেশবিদরা জানান, ব্লু নেটওয়ার্ক গড়তে হলে এই প্রকল্পে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। নদী খাল রক্ষা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘প্রাক-সমীক্ষা নির্ভর, পুর্নাঙ্গ এবং সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। সেখানে জেলা প্রশাসন, ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার এবং একইসঙ্গে ওয়াসা-কে যুক্ত করে একটা বিরাট সামগ্রিক পরিকল্পনাও প্রয়োজন।’
অপরদিকে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জানান, দখলদারকে ছাড় না দিয়ে গুরুত্বারোপ করা হবে মৎস্য চাষ, সেচ নেটওয়ার্ক, কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের খাল দক্ষিণে ২৬টি, উত্তরে ২৯টি। এই সমস্ত খালই আমরা পর্যায়ক্রমে সংস্কার বা ক্ষরণের আওতায় নিয়ে আসবো।’
যে কোনো মূল্যে নদী খালের প্রাণ ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।




