এনসিপির নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপি, সারজিসের অভিযোগ

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম | ছবি: এখন টিভি
1

এনসিপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম। আজ (বুধবার, ৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এবং তারপরে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের দেখে নিবে। নির্বাচনের আগে এখনি যদি তারা ক্ষমতা, পেশিশক্তি ও কালোটাকার দাপট দেখায় তাদের মাধ্যমে আগামীর নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলবো। প্রয়োজনে আমরা জিডি ও মামলা করবো। কিন্তু বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি মনে করে এই ধরণের আওয়ামী কালচার করে পাড় পেয়ে যাবে তা এই বাংলাদেশে হবে না।’

এ সময় হলফনামা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘হলফনামায় আমার বার্ষিক আয়কর রিটার্নের তথ্যে অনিচ্ছাকৃত টাইপিং ভুল ছিলো। সেটি আমরা নিয়ম মেনেই সংশোধন করে জমা দিয়েছি। হলফনামায় বাকি যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে তা সব ঠিক আছে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নানাভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিছু অ্যাক্টিভিস্ট রয়েছে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক দল হিসেবে হেয় প্রতিপন্ন করা, প্রার্থীকে বিতর্কিত করা কিংবা জুলাইয়ে যারা নেতৃত্বে ছিলো তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং কিভাবে আওয়ামীলীগকে আবারও প্রাসঙ্গিক করা যায় এখন নানা উদ্দেশ্য রয়েছে তাদের।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘মিরজাহান নামে একজন অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে ওবায়দুল কাদের পালানো নিয়ে আমাকে জড়িয়ে পোস্ট করেছিল। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করে দেখেছে এর কোনো ভিত্তি নেই। পরে ওই ব্যক্তি ওই পোস্ট তুলে নেয়। এরপর কয়েকদিন আগে আমি হাদি হত্যাকারীকে ফিরিয়ে দিতে এবং নির্বাচনের আগে রায় কার্যকরের একটি পোস্ট করেছিলাম। তার স্ক্রিনশট নিয়ে ফেইসবুক অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন লিখেন আমি নাকি সেনাপ্রধানকে সহযোগিতা করেছি গাড়ি দিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে পাড় করতে। এদের মতো কিছু অ্যাক্টিভিস্ট উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা অর্থের বিনিময়ে বা কারো এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করছে। অভ্যুত্থানের আগের ভূমিকার জন্য তারা সম্মান পাবেন তবে তার মানে যা তা করে তারা পার পেয়ে যেতে পারেন না। এমন অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এসময় সারজিস আলম বলেন, ‘যদি এই এক দেড় বছরে কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারে তাহলে যে শাস্তি দিবে আমি মেনে নিবো। কিন্তু আওয়ামী লীগের পেইড এজেন্ট হিসেবে তাদের টাকায় যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর বড় উদাহরণ সুরভী। তার মামলার এজাহারে আছে ৫০ হাজার টাকা কিন্তু সেটিকে ৫০ কোটি বলে প্রচার করা হলো। পরে জানা গেলো সেটিও মিথ্যে। এতজন সো-কল্ড সাংবাদিকের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে সমাজে তার মুখ দেখার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।

এ সময় গণমাধ্যমের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইএ