২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর, রাতে হঠাৎ করেই একদল উত্তেজিত দুর্বৃত্ত রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা চালায়। ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করে দেশের দুই অন্যতম শীর্ষ পত্রিকার কার্যালয়ে। মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ডেইলি স্টারের ছাদে আটকা পড়েন প্রায় অর্ধশত গণমাধ্যমকর্মী। সেদিন কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তারা।
এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে ৪০০ ব্যক্তির নামে মামলা করা হয় এবং পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার ৬ মাস পর এখনও চলছে তদন্ত। দুটি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন দেশের কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনে ব্যাপক হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়। সংবাদভিত্তিক চ্যানেল সময় টিভি, একাত্তর, ডিবিসি ও এটিএন নিউজের কার্যালয়ে একযোগে হামলা হয়। এর মধ্যে একাত্তর টেলিভিশনে লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কারওয়ান বাজারে এটিএন নিউজে হামলা চালিয়ে সব ধরনের জিনিসপত্র লুট করা হয়।
সেদিন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত কর্মীরা কোনোভাবে পালিয়ে বাঁচেন। অনেকের রয়েছে বিভীষিকাময় স্মৃতি। তবে এতো বড় হামলা, অগ্নিসংযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা তদন্ত হয়নি।
সেদিন ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তখনকার একাত্তর টিভির সাংবাদিক পারভেজ রেজা বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হতে পারে না। সরকার এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে গণমাধ্যমের ওপর হামলা বন্ধ হবে না বলেও মত দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চ্যানেল ওয়ানের প্ল্যানিং এডিটর পারভেজ রেজা বলেন, ‘আজকে যদি ২ মাত্রার একটা হামলা হয়, তাহলে পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ যখন হামলা করে তখন সে ৪ বা ৫ মাত্রায় করে। হামলা পরবর্তীতে বলি যে, এটার বিচার হবে, তদন্ত হবে, এটা ঠিক হয়নি; তবে শেষ পর্যন্ত এর বিচার বা এর নেপথ্যে যারা আছে তাদের খুঁজে বের করা হয় না; যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের এ ব্যাপারে স্বদিচ্ছা থাকে না।’
স্বাধীনতার পর এত ব্যাপক আকারে হামলা কখনোই হয়নি উল্লেখ করে দেশের দুই সিনিয়র আইনজীবী বললেন, গণমাধ্যমের ওপর সব সময় আঘাত আসলেও কয়েক বছর ধরে হামলা সব কিছুকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে বলেও মনে করেন তারা।
সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, ‘এই যে আক্রমণ হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কিন্তু গণমাধ্যমগুলো একত্রে দাঁড়াতে পারেনি। ওই আক্রমণে গণমাধ্যমের একটা অংশকে আবার আমরা উল্লাস করতে দেখেছি। এখানে মূল কথা হলো, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যদি রক্ষা করতে হয়, গণমাধ্যমে যারা কাজ করছেন, তাদের ঐক্য দরকার আছে।’
মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের ওপর এ আক্রমণের ব্যাপারটি যদি যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করা না হয়, তাহলে যে আশঙ্কাটা তৈরি হবে, সেটি হলো- স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সমাজে অবাধ তথ্য প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
২০১৩ সালে একবার আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়েও একবার হামলা করা হয়। এছাড়া বন্ধ করা হয় চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি।





